দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে তীব্র শিক্ষক সংকট। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন প্রভাষক দিয়েও বিভাগ চলছে। কিছু বিভাগে আছেন দুজন শিক্ষক। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট ঘেঁটে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্ষতিটা অন্যদের তুলনায় বেশি। তাই তাদের দাবি এ সংকট সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যমতে, রাবিতে বর্তমানে ১ হাজার ৪৯০টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ৩৯৮টি পদ শূন্য রয়েছে। যেটি মোট পদের ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই আবার শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। তবে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত মার্চে ‘তীব্র সংকট’ থাকা একাধিক বিভাগে ১৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। আরো কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে রাবিতে সব ধরনের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২১ সালে নিজের শেষ কর্মদিবসে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী পদে ১৩৮ জনকে অ্যাডহকে নিয়োগ দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। পরে আদালত নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ফলে তারা আর যোগদান করতে পারেননি। এরপর আরেক দফা নিষেধাজ্ঞার পর গত বছরের জুনে নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় মন্ত্রণালয়। জুলাই আন্দোলন ও পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রশাসন আসায় নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হয়। ফলে প্রায় ছয় বছর নিয়োগ কার্যক্রম না থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির তুলনামূলক নবীন বিভাগগুলোয় শিক্ষক সংকট তীব্র। কোনো বিভাগ দুজন স্থায়ী শিক্ষক ও অন্য বিভাগের শিক্ষক (অতিথি শিক্ষক) দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। এক দশক আগে চালু হওয়া শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে একজনও স্থায়ী শিক্ষক নেই। এ বিভাগটি ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে অতিথি শিক্ষক বা খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়েই চলছে। এছাড়া আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগে মাত্র দুজন সহযোগী অধ্যাপক রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এর মধ্যে অনেকে অবসরে গেছেন, আবার অনেকে শিক্ষা ছুটিতে আছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কয়েকটি বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকেও (ইউজিসি) বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে যেন স্থবিরতা না আসে সেজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভাগগুলোতে যোগ্য ও মেধাবীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। আগে শিক্ষক নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা যোগ্যদেরই স্থান দেব।’
ইউজিসির তথ্যানুযায়ী দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৫। এর মধ্যে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। ২০২২ সালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পায়। পরের বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দীন। ২০২৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ’ নামে নওগাঁয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়। তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়’। গত বছরের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নবীনতম হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ২১৫ জন। এখানে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগ রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ৪৫ জন। তবে এতগুলো বিভাগ হওয়ায় বেশ কয়েকটি বিভাগে মাত্র একজন করে প্রভাষক রয়েছেন। কিছু বিভাগে দুজন শিক্ষকও আছেন। মাইক্রোবায়োলজি এবং ভেটেরিনারি জনস্বাস্থ্য বিভাগ, প্যাথলজি এবং পরজীবীবিদ্যা, অ্যাকুয়াকালচার (জলজ চাষ), জলজ প্রাণী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য জেনেটিক্স এবং প্রজনন, মৎস্য টেকনোলজি অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগ, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কীটতত্ত্ব, প্লান্ট প্যাথলজি, জেনেটিকস ও উদ্ভিদ প্রজনন, কৃষি সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি বনায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান, হাওর ও পাহাড়ি কৃষি, কৃষি রসায়ন, কৃষি অর্থনীতি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োকেমিস্ট্রি, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান, জৈব পরিসংখ্যান, অ্যানিমেল সায়েন্স, ইংরেজি এবং বাংলা এসব বিভাগে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। আর অ্যানাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগ, অ্যানিমেল নিউট্রিশন, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজি এবং টক্সিকোলজি বিভাগ, জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ, মৎস্য জীববিজ্ঞান এবং জীববৈচিত্র্য বিভাগ, সমুদ্রবিদ্যা এবং ব্লু অর্থনীতি বিভাগ, হর্টিকালচার বিভাগ, ক্রপ বোটানি, এগ্রোনমি বিভাগে দুজন করে শিক্ষক রয়েছেন।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বেশ কয়েকটি বিভাগ চলছে এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে। যদিও কোর্স শেষ করতে অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্যাথলজি বিভাগ, জেনেটিক্স এবং পশু প্রজনন বিভাগ, দুগ্ধ বিজ্ঞান বিভাগ, মেডিসিন, জেনেটিক্স ও উদ্ভিদ প্রজনন, ফিশারিজ টেকনোলজি অ্যান্ড কোয়ালিটি কন্ট্রোল, মৎস্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলোয় মাত্র একজন করে প্রভাষক রয়েছেন। এছাড়া, অ্যানাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগ, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, পোলট্রি সায়েন্স বিভাগে তিনজন করে শিক্ষক রয়েছেন। প্যারাসাইটোলজি (পরজীবীবিদ্যা), সমুদ্রবিদ্যা বিভাগ, কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগ, গণিত ও পদার্থবিদ্যা বিভাগে দুজন করে প্রভাষক রয়েছেন। কৃষি অর্থায়ন, সমবায় এবং ব্যাংকিং বিভাগে তিনজন, হর্টিকালচার, ক্রপ বোটানি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি, কৃষি রসায়ন বিভাগে চারজন করে শিক্ষক রয়েছেন। তবে মৎস্য জীববিজ্ঞান এবং জেনেটিক্স বিভাগে তিনজন প্রভাষক থাকলেও এর মধ্যে একজন শিক্ষা ছুটিতে আছেন।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে দুজন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন। ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগে রয়েছেন চারজন সহকারী অধ্যাপক। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। এর মধ্যে একজন শিক্ষা ছুটিতে আছেন।
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনজন প্রভাষক ও একজন সহকারী অধ্যাপক। ভূতত্ত্ব বিভাগে আছেন তিনজন শিক্ষক। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে তিনজন প্রভাষক রয়েছেন। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে আছেন তিনজন প্রভাষক।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী দুটি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে চারজন, রসায়নে চারজন প্রভাষক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে তিনজন প্রভাষক রয়েছেন।
পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান, গণিত, মনোবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চারজন করে শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষক সংকটের বিষয়ে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা ঠিকই আছে। তবে বিভাগ হিসেবে শিক্ষক সংখ্যা নগণ্য। এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগ চালানো কঠিনই। সেজন্য ইউজিসির অনুমোদিত খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তুলনামূলক নতুন, বেশির ভাগ বিভাগে প্রভাষকরা পড়াচ্ছেন। সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে নবীন শিক্ষকদের পড়ানো ও গবেষণালব্ধ দক্ষতার কিছু পার্থক্য থাকে। তবে কোর্স চালু করে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর পর সেটি তো আর বন্ধ করে দেয়া যায় না। সেজন্য কিছু সংকট নিয়ে চলতে হচ্ছে।’
শিক্ষার্থী কম থাকার পরও ৩৩টি বিভাগ চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছুটা পার্থক্য আছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিষয়ের সঙ্গে অন্যগুলোর আন্তঃসম্পর্ক থাকে। সেজন্য এসব বিভাগের প্রয়োজনীয়তা ছিল। তাই সে সময়কার প্রশাসন সেগুলো চালু করেছিল।’
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান বণিক বার্তাকে বলেন, শিক্ষক সংকট আছে এটা সত্য। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো, আমরা সিনিয়র শিক্ষক পাচ্ছি না। প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সিনিয়র শিক্ষকরা তো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন না। আমাদের বাজেট সংকটও রয়েছে। ফলে অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসরদের সম্মানিত শিক্ষক হিসেবেও আনতে পারছি না। ইউজিসির কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাজেট পাব আশা করছি। একজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগ চালানো কঠিন।
এখনো একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে না পারার বিষয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. হাছানাত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর মেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। বর্তমানে ভাড়া ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। আমরা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চেয়ে তিন দফা ইউজিসিতে চিঠি দিয়েছি। এখনো৷ অনুমোদন পাইনি। তবে আশাবাদী আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারব। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরাও চালানোর অনুমতি পাব বলে আশা রাখছি।’
তবে কোনো বিভাগের শিক্ষক প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়োগ দিতে পারে জানিয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর এসএমএ ফায়েজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই সিদ্ধান্ত নেবে। পদ শূন্য থাকলে কোনো বিভাগ যদি শিক্ষক নেয়ার প্রয়োজন মনে করে তাহলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনু্যায়ী কর্তৃপক্ষ নিয়োগের উদ্যোগ নেবে।’
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে কোনো বিভাগ চালানো হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শিক্ষার্থীরা। তাই সরকারকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয়েছে। সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা কিংবা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে পারবে কিনা তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ফলে স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই এমন বিশ্ববিদ্যালয়ও অনুমোদন পেয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করাচ্ছে। সব বিশ্ববিদ্যালয় ও সব বিভাগের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা সেটি নিরূপণ করার সময় এসেছে। সরকারকে এটি করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে বিভাগ কীভাবে চলে? কীভাবে কোর্স শেষ হচ্ছে আর শিক্ষার্থীরা কী শিখছেন সেই প্রশ্ন রয়ে যায়। এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’