গাছে গাছে ঝুলছে রঙিন লিচুর থোকা। এবার ফলনও হয়েছে খুব ভালো। লিচু সংগ্রহ করে ঝুড়িতে সাজানো, ট্রাকে তোলা নিয়ে যেন উৎসব শুরু হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৫৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়ি টিলাভূমি সমৃদ্ধ লাল মাটিতে লিচুর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। বিশেষ করে বিজয়নগর উপজেলার লিচু মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। এ উপজেলার পাহাড়পুর, মুকুন্দপুর, সেজামুড়া ও কালাছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক লিচুর বাগান রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষী এখন ধানি জমিতেও বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ শুরু করেছেন।
বাজারে সাধারণত মে মাসের শুরুতে বিজয়নগরের লিচু আসতে শুরু করে। এখানকার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার ও মেরাশানী বাজার। এছাড়া মুকুন্দপুর, রানওয়ে বাজার ও চম্পকনগরে প্রতিদিন ভোরে লিচুর হাট বসে। ভোর ৩টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যেই কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা শেষ হয়। ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না থ্রি ও এলাচি জাতের লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে বাগানগুলোয় এলাচি ও চায়না থ্রি জাতের প্রতি ১০০ লিচু ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বোম্বে জাতের লিচু ৪০০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কালাছড়া গ্রামের চাষী রহমত আলী জানান, ৪ লাখ টাকায় ইজারা নেয়া তার একটি বাগান থেকেই দর্শনার্থী ও পাইকারদের কাছে প্রতিদিন ভালো অংকের লিচু বিক্রি হচ্ছে। একই এলাকার চাষী শফিক ও সোলেমান জানান, এরই মধ্যে তারা প্রত্যেকে ২ লাখ টাকার বেশি লিচু বিক্রি করেছেন এবং বাগানের যে ফলন আছে, তাতে আরো ২০-২৫ দিন বিক্রি করা যাবে।
স্থানীয় লিচু বাগানগুলোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিনোদনের এক নতুন আবহ। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় জেলা শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে বাগানগুলোয় ভিড় করছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউবা গাছ থেকে তাজা লিচু পেড়ে খাওয়ার আনন্দ নিচ্ছেন। ফলে বাগান এলাকাগুলো এখন এক একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন জানান, এখানকার অম্লীয় লাল মাটি লিচু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের নিয়মিত মনিটরিং ও সঠিক পরামর্শের কারণে এবার রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা সহজেই অর্জিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।