একই সঙ্গে পাঁচ প্রতিষ্ঠানও এ পুরস্কার পাচ্ছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারীশিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ এ বেসামরিক সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
সচিবালয়ে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এমএ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এছাড়া পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ পদক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করে থাকেন।
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) পাচ্ছেন রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী। গত ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত হন। যাদের বেশির ভাগই ছিল শিক্ষার্থী। বিমান আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। সে সময় মাহেরীন জীবনের মায়া ত্যাগ করে শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি নিজে অগ্নিদগ্ধ হন। রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মাহেরীন প্রায় ১৭ বছর ধরে মাইলস্টোন স্কুলে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। মারা যাওয়ার আগে তিনি হায়দার আলী ভবনের (যেটিতে বিমান বিধ্বস্ত হয়) বাংলা মাধ্যমের দ্বিতীয়-পঞ্চম শ্রেণীর কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে ছিলেন। তার সে আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে স্বাধীনতা পুরস্কারের (মরণোত্তর) জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে।