মির্জা ফখরুল ও মেজর হাফিজে ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটেই নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপ্রধান।

সে হিসেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থীই যে নির্বাচিত হবেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে নিজেদের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

এদিকে শুরুতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল সন্ধ্যায় দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে তা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। জামায়াত এরই মধ্যে প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবার ভোটে গড়াচ্ছে।

মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়েন ২৪ জুলাই। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাতে ভোট গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে ২০ আগস্ট।

নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই বিএনপি এবার দলের ভেতর থেকেই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত করতে চায় বলে জানা গেছে। সে হিসেবে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও দলীয় প্রধানের বিবেচনায় রয়েছে বলে একাধিক সূত্র বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আরো কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে এলেও তাদের বয়স ও বর্তমান শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। সেই সঙ্গে তাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে এ দুজনের নাম দলীয় ফোরামে জোরেশোরে আলোচনাও হয়।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত যদিও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের হাতেই ন্যস্ত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সে বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে স্থায়ী কমিটি।’

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট, অর্থাৎ ভোট গ্রহণের দুইদিন আগে।

সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। জামায়াতে ইসলামী এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর করতে হচ্ছে ভোটের আয়োজন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট থাকায় তাদের প্রার্থীই জয়ী হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট কে হবেন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সম্প্রতি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা জানানো হবে।’

এদিকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে গতকাল রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জামায়াত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে রোববার ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি সেখানেই চূড়ান্ত করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দল প্রার্থী দেবে কিনা সেটা নিয়ে আমরা রোববার (আজ) বসব। যেহেতু একটি পদ, আমরা একজন প্রার্থী ঘোষণা করব। এরই মধ্যে একজন প্রার্থী আমরা চূড়ান্ত করেছি। তবে নাম এখনই প্রকাশ করছি না।’

আরও