পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করা ও কক্সবাজারের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার লাবনি পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে তিনদিনের পর্যটন মেলার উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
বিশ্ব পর্যটন দিবসকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক, পর্যটন ব্যবসায়ী, স্থানীয় সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পেয়েছে বিশেষ মাত্রা। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, দ্বীপাঞ্চল, সামুদ্রিক পর্যটন, স্টল, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, নীল জলরাশি ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে কক্সবাজার দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। পর্যটন দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরো বিস্তৃত করার পাশাপাশি পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, পর্যটন গাইড, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ফলে পর্যটন খাতের বিকাশ স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
টেকসই পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্ব:
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত আবাসন ও সেবার নিশ্চয়তা।
বিশেষ করে সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন এলাকাগুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের হয়রানি রোধ এবং সেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনদিনের এ আয়োজন পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা এবং পর্যটনবান্ধব কক্সবাজার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সুযোগ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আজ বিশ্ব পর্যটন দিবসের সমাপনী আয়োজন
বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল দিন পর্যন্ত চলবে জেলা প্রশাসনের এ বর্ণাঢ্য আয়োজন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব, অর্থনৈতিক অবদান এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নের বার্তা ছড়িয়ে দেয়াই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ তিনদিনের উৎসব কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের প্রচার-প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং পর্যটন নগরীকে আরো আকর্ষণীয় ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নতুন করে তুলে ধরার পাশাপাশি টেকসই পর্যটন উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আলোচক ও পর্যটকরা জানান, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে পর্যটন পরিচালনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
পর্যটন দিবসে প্রত্যাশা:
বিশ্ব পর্যটন দিবসের তিনদিনের আয়োজনকে ঘিরে কক্সবাজারের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, নতুন সম্ভাবনা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, কক্সবাজারের পর্যটন বিকাশের বৃহত্তর পরিকল্পনায় টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এ নৌ-পথে যাত্রী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সেন্ট মার্টিনের পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে আরো গতিশীল ও সমৃদ্ধ করে তুলতে সাংস্কৃতিক আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন ধারার সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারের প্রাণবন্ত পর্যটন সংস্কৃতি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সামনে আরো প্রাণবন্তভাবে ফুটে উঠবে। পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতার মতো উদ্যোগ পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যা কক্সবাজারকে একটি টেকসই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।