কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ‘এন আলম’ নামের একটি এলপিজি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গতকাল রাত ১০টার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে গ্যাস লিকেজ হয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম আতংক তৈরি হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। তাদের কক্সবাজার সদর ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে পাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইমরান জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে আতংকিত লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
তিনি আরো বলেন, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল সংলগ্ন আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দিগবিদিক ছুটতে শুরু করে।
আগুনের তীব্রতায় আদর্শগ্রাম এলাকার কয়েকটি ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুরো এলাকায় ধোঁয়া ও গ্যাসের তীব্র গন্ধে শ্বাসকষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন গতকাল রাতে জানান, ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধ ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।