পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘নদী রক্ষায় সরকার, জনগণ, গবেষক ও পরিবেশবিদদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নদী দখল ও দূষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। নদীকে শুধু পানিপ্রবাহের মাধ্যম হিসেবে নয়; দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
গতকাল বিকালে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উদযাপন ও মার্ক অ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড গিভিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার।
সুপেয় পানির সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘চারপাশে প্রচুর পানি থাকলেও শিল্প বর্জ্য ও দূষণের কারণে সেই পানি ব্যবহারের উপযোগী থাকছে না। ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ১১টি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পরিবেশ ও পানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। দেশে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুধু গভীর নলকূপ স্থাপন করে এ সংকট মোকাবেলা সম্ভব নয়। তেলের জন্য যে যুদ্ধ চলছে, শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও সেই যুদ্ধে নামতে হতে পারে। তখন হয়তো টাকা বা ডলার দিয়েও পানি পাবেন না।’
নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গ টেনে এ্যানি বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য আবেদন পাই। কিন্তু চার থেকে সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে বছরে ৩০০ থেকে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।’
পানিতে দূষণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দূষিত পানিতে গোসল করাও ঠিক নয়। কিছু এলাকায় মাছ চাষ হলেও দূষণের কারণে সেসব মাছ খাওয়ার উপযোগী কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় পানিতে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টি উঠে এসেছে।’
পানির সংকট মোকাবেলায় এটিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি খাল খনন কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়ে সবাইকে এতে যুক্ত হতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘মার্ক অ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড নদী ও জলসম্পদ সংরক্ষণে যারা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন, তাদের স্বীকৃতি ও সম্মাননা অন্যদেরও নদী রক্ষায় উৎসাহিত করবে। নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।’