সংযোগবিহীন সেতু

এক দশক ধরে বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে সেতু

নড়াইলের লোহাগড়ায় অপরিকল্পিত উন্নয়নের এক অদ্ভুত নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি কংক্রিটের সেতু।

উপজেলার মাকড়াইল এলাকায় বিলের মাঝে নির্মিত সেতুটি গত ১০ বছরেও মানুষের কোনো কাজে আসেনি। নেই নদী, খাল, এমনকি সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়কও। ফলে সরকারের প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাঠামোটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘বিষফোঁড়া’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষকসহ অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। দ্রুত সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার প্রান্তিক কৃষকসহ ভুক্তভোগীরা। আর জমি জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি জানিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৬ টাকা ব্যয়ে মাকড়াইল চর এলাকায় কৃষকদের কথা চিন্তা করে ২৪ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, সেতুটির চারপাশে ফসলি জমি। কোনো জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে, কোনো জমিতে পাকা ধান। মাঝখানে সেতু। সেতুর নিচ দিয়ে ধানখেতের কাদা-মাটির ওপর দিয়ে মানুষ হেঁটে আসা-যাওয়া করছে। নির্মাণের পর থেকে চলাচল না করায় অনেকটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে সেতুটি। সেতুর দুই পাশে জন্মেছে আগাছা। জায়গায় জায়গায় ভেঙে গেছে সেতু। কাদামাটির ওই রাস্তা থেকে ১০-১২ ফুট উঁচু সেতুর ওপর উঠতে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। স্থানীয়রা সেতুর দুই পাশে মাটি দিয়ে কোনো রকমে সেতুর ওপর ওঠার ব্যবস্থা করেছে। শুকনো মৌসুমে হেঁটে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে চারদিকে থৈ থৈ করে পানি।

শালনগর গ্রামের আশিক শেখ বলেন, ‘রাস্তা নেই—বিলের মাঝে অকারণে একটা সেতু করে রাখা হয়েছে। এ সেতু আমাদের কোনো উপকারে লাগে না। এতে জনগণের কোনো লাভ হয়নি। লাভ হয়েছে ঠিকাদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের।’

লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শরিফ মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তখন কেন বা কী কারণে সংযোগ সড়ক করা হয়নি, তা আমার জানা নেই। সম্প্রতি সরজমিনে পরিদর্শন করে সেতুর দুই পাশে চলাচলের জন্য মাটি দিয়ে ভরাট করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এবিএম মনোয়ারুল আলম বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে সেখানকার মানুষ সেতুটিতে চলাচলের জন্য রাস্তা দিতে রাজি হয়নি। পরবর্তী সময়ে জায়গা জটিলতার কারণে সেই রাস্তা আর করা হয়নি। সেতুটির দুই পাশে সড়ক নির্মাণের জন্য নতুন করে দুটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।’

আরও