কুড়িগ্রামে আবারো সার বিতরণে হট্টগোল, সড়ক অবরোধ

জেলায় বাড়তি বরাদ্দ ১৩০০ টন

এদিকে জেলায় বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার এক হাজার টন ইউরিয়া ও ৩০০ টন ডিএপি সার বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

কুড়িগ্রামে ইউরিয়া সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কয়েকটি এলাকায় কৃষকদের হট্টগোল ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়। এদিকে জেলায় বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার এক হাজার টন ইউরিয়া ও ৩০০ টন ডিএপি সার বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল সকালেই সদর উপজেলার মাঠেরপাড়, ঘোগাদহসহ বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে শত শত কৃষকের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। চাহিদার তুলনায় কম সার দেয়া ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তোলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কৃষকরা। একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তারা সড়ক অবরোধ করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, সদর থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অতিরিক্ত নজরদারির মধ্য দিয়ে সার বিতরণ পুনরায় শুরু হয়।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কৃষক নুরুল হক বলেন, ‘আমার সারের চাহিদা দুই বস্তা। সেখানে এক বস্তা পাচ্ছি। টাকা দিয়ে সার কিনতে গিয়েও যদি এমন হয়, তাহলে আবাদ করব কীভাবে?’

কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে যেন চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। তা না হলে ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

এদিকে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত চাষাবাদ ও কৃষকদের বাড়তি চাহিদার কথা বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের মাসিক বরাদ্দের বাইরে আরো এক হাজার টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুই দফায় পৃথক আদেশে এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, গত পাঁচ বছরে সেপ্টেম্বরের গড় বরাদ্দের তুলনায় এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ ইউরিয়া বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩০০ টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলায় কোনো সারের সংকট নেই। চাহিদার তুলনায় প্রায় এক হাজার টন ইউরিয়া সার অতিরিক্ত মজুদ রয়েছে। একটি পক্ষ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত বছর ৫৩ হাজার ৯৫০ টন সার বরাদ্দ দেয়া হলেও চলতি বছর গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ৯৯২ টন সার বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর পরও ১ হাজার ৩০০ টন সার বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ টন সার বিতরণ শুরু হয়েছে। বাকি ৫০০ টন সার আগামী দু-একদিনের মধ্যে বিতরণ শুরু হবে। আশা করছি সার নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

সার বিতরণে অনিয়ম ঠেকাতে ডিলার পয়েন্টগুলোয় নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ।

এদিকে কুড়িগ্রামে সার নিয়ে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য স্থানীয় ব্যবস্থাপনার ত্রুটি, কৃষি বিভাগের তথ্যের ঘাটতি ও ডিলারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। গতকাল জেলা প্রশাসন হলরুমে সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আরও