চাঁদপুরে বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া ও ধনাগোধা নদীবিধৌত চাঁদপুর জেলা। বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা।

পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া ও ধনাগোধা নদীবিধৌত চাঁদপুর জেলা। বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা। তাই প্রতি বর্ষা মৌসুমে মতলব উপজেলাসহ চাঁদপুরের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় নতুন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কারিগররা।

সরজমিনে দেখা গেছে, জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার বড়দিয়া, আড়ংবাজার, নাগদা এলাকায় ঠক ঠক করে কাঠের ভেতর এক এক করে পেরেক গাঁথছেন কারিগররা। কাঠের পর কাঠ সাজিয়ে তৈরি করছেন নতুন নৌকা। আর সেগুলো সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে সড়কের পাশে। ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের কাঠের নৌকা তৈরি করছেন কারিগররা। বর্ষার আগমন উপলক্ষে কাঠমিস্ত্রিদের পাশাপাশি চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষও নৌকা তৈরি, ক্রয় ও মেরামত এবং নৌকার লগি-বৈঠা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্য বছরের মতো এ বছরও নৌকা তৈরি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এসব নৌকা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে।

মতলব উপজেলার বড়দিয়া ও আড়ংবাজারে নৌকা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কাঠমিস্ত্রিরা দুই হাতে রামদা করে কাঠের পিট থেকে কালো এবং আবরণ ছেঁটে মসৃণ করছেন। একই সঙ্গে কাঠ নৌকা তৈরির উপযোগী করছেন। আড়ংবাজারের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক মো. বাবুল গাজী জানান, তিনি দীর্ঘ ১১ বছর বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করে আসছেন।

মতলব পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড়দিয়া, আড়ংবাজার ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নৌকা তৈরির প্রায় ১৫টি কারখানা ও ছোট ছোট দোকান রয়েছে। অনেকেই নৌকা তৈরি করে পানিতে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ কারখানা ও ডাঙায় রেখেছেন। এসব নৌকা বিক্রি করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের বর্ষায় চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা। এ সময় গ্রামগুলোর চারপাশে পানি থই থই করে। তাই এক মাস আগে থেকেই নৌকা তৈরি শুরু করেন এখানকার কারিগররা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণে গিয়ে দেখা যায়, কাঠমিস্ত্রিদের দম ফেলার সময় নেই এখানে। বিশেষ করে মতলব উত্তরে ১৪টি গ্রামে মেঘনা-পদ্মা ও ধনাগোদা নদীর তীর এবং চরাঞ্চলে বহু লোকের বসবাস। আশপাশের খাল ও বিলে পানি বেড়ে গেছে। বিভিন্ন কায়দায় জেলেদের মাছ ধরা শুরু হয়ে গেছে। মতলব উত্তরের বিশাল চরাঞ্চলসহ পাশের মুন্সিহাটের সটাকি, গালিমখাঁ বাংলাবাজার, কালীপুর বাজার থেকেও নৌকা কিনতে লোকজন এসেছে। এ বাজারে বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য ১১-১৩ হাতের এক একটি ডিঙ্গি নৌকা কাঠের প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৪ হাজার টাকায়।

বাংলাবাজারের নৌকাবিক্রেতা সুবোল ও তারাপদ সূত্রধর বলেন, ‘১০-১২ হাত একটা নৌকা বানাতে খরচ পড়ে ১২-১৬ হাজার টাকা। মালপত্র পরিবহনের বড় নৌকা বানাতে লাখ টাকা খরচ হয়। লোহার পেরেকের দাম বেড়ে গেছে বলে নৌকা তৈরির খরচও বেড়ে গেছে। আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে। সপ্তাহের রোববার ও বুধবার সটাকি বাজারে নৌকা বিক্রি হয়।’

আড়ংবাজার এলাকার কারিগর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা যেসব নৌকা তৈরি করি স্থানীয়ভাবে কোষা নৌকা বলা হয়। এসব কোষা নৌকা তৈরি করতে দুজন কারিগরের একদিন সময় লাগে। ব্যবহার হয় কড়ই ও চাম্বল কাঠ। আবার অনেক সময় আকারে ছোট হলে দামও কম হয়। আমরা গত কয়েক বছর কয়েকশ নৌকা বিক্রি করেছি। এখন নৌকা তৈরি করে রেখেছি। বিক্রিও করছি।’

আরও