২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও পৌরসভা এবং মেয়র কাউন্সিলররা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা চালু রাখতে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। শুধু করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান মেম্বার মো. মহিউদ্দিন। বাকি ১৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা চলছে প্রশাসক দিয়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসক নিয়োগের পর জনভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। একটি ওয়ারিশ সনদের জন্য তিনজন সাক্ষী নিয়ে যেতে হয় উপজেলা সদরে। এতে অর্থ ও সময় দুটোই গচ্চা যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটটি ইউনিয়ন ও বারইয়ারহাট পৌরসভার দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। বাকি সাতটি ইউনিয়ন ও মিরসরাই পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পান উপজেলা সহকারী কশিমনার (ভূমি)। এসব ইউনিয়নের মানুষকে জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ছুটতে হচ্ছে উপজেলা সদরে।
ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ইছামতি গ্রামের বাসিন্দা জনি। একটি খামারের সনদের জন্য ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে আবেদন করেন। আবেদনটি ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। অনেক দিন ঘোরাঘুরি করেও তিনি সনদটি পাননি। জনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেননি। বেশ কয়েক দিন আমি উপজেলা পরিষদে এসে সনদটি নিতে পারিনি। পরে সনদের জন্য দেয়া কাগজপত্র ফিরিয়ে নিয়েছি। অথচ চেয়ারম্যান-মেম্বার থাকলে সহজে সনদটি পেতাম।’
হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের অভি দত্ত বলেন, ‘আমার এক বড় ভাই দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তার ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন। মাসখানেক আগে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেছি। নির্বাচনে বেশ কিছুদিন আগে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফোন করে জানানো হয় তিনজন স্বাক্ষী নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে। স্বাক্ষী নিয়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকদিন পর সনদটি পরিষদে আসে। তত দিনে আমার বড় ভাইয়ের ছুটি শেষ হয়ে গেছে। তাই কাজটি আর করা হলো না।’
ওই ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা সুজন সূত্রধর বলেন, ‘একটি ওয়ারিশ সনদের জন্য তিনজন স্বাক্ষীকে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যেতে খাওয়া, ভাড়া ও ৫০০ টাকা করে সম্মানি দিতে হয়েছে। কিন্তু পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার থাকলে টাকাগুলো আমার খরচ হতো না।’
একই চিত্র বাকি ১৪টি ইউনিয়ন, বারইয়ারহাট ও মিরসরাই পৌরসভায়। শুধু করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকায় মানুষ সেবা পাচ্ছে আগের মতো।
এ বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বলেন, ‘করেরহাট ইউনিয়নে আগের মতোই মানুষ সেবা পাচ্ছে। আমরা সেবার মান আগের তুলনায় আরো বেশি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের বলেন, ‘মিরসরাই পৌরসভা ছাড়াও সাতটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছি। সরকার যেহেতু দিয়েছে, কষ্ট হলেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে ইউনিয়নগুলোয় দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।’