যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার সকালে কেন্দ্রের তিন ইউনিটের মধ্যে একমাত্র সচল ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপরই কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি তারও ৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৪ জানুয়ারি মেরামতের পর ইউনিটটি আবার সচল করা হলে ইউনিটটি উৎপাদনে আসে। কিন্তু এর মাত্র ৪ দিন পর রোববার সকাল থেকে ইউনিটটিতে আবারও বড় ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, রোববার সকালে প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে মেরামত কাজ শুরু হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার কবে উৎপাদনে ফিরবে তা এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ত্রুটি সারিয়ে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে হয়তো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
তিনি আরো জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটটির বয়স ইতোমধ্যে ২০ বছর পেরিয়ে গেছে। প্রতি ৫ বছর পর পর প্রতিটি ইউনিট ওভার হোলিং বা মেরামত করতে হয়।
প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে কাজ করছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এসে পৌঁছালে ইউনিটটিতে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তারপরও আশা করছি, আগামী মার্চে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আংশিক উৎপাদনে ফিরতে পারে। আর দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে। ফলে কেন্দ্রটি সবকটি ইউনিট ঠিক কবে উৎপাদনে ফিরবে এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।