মিয়ানমার ঘুরে এল প্রতিনিধি দল

বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়

প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের মংডু শহর ঘুরে দেখেছে রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল। গতকাল সকাল ৯টায় ২০ জন রোহিঙ্গাসহ ২৭ জনের প্রতিনিধি দলটি টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাট দিয়ে সে দেশে পৌঁছে। মিয়ানমার পৌঁছার পর সেখানকার রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি শেল্টার পরিদর্শন করেন তারা।

প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের মংডু শহর ঘুরে দেখেছে রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল। গতকাল সকাল ৯টায় ২০ জন রোহিঙ্গাসহ ২৭ জনের প্রতিনিধি দলটি টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট ঘাট দিয়ে সে দেশে পৌঁছে। মিয়ানমার পৌঁছার পর সেখানকার রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি শেল্টার পরিদর্শন করেন তারা।

পরিদর্শনে গিয়ে মিয়ানমার সরকারের কাছে নিজেদের দাবিও তুলে ধরেন রোহিঙ্গারা। শুধু আবাসন সুবিধা নয়, নিজের জমিজমা ফেরতসহ স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকারও চান রোহিঙ্গারা। প্রতিনিধি দলের প্রধান শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের সন্তুষ্টির বিষয়টি আপেক্ষিক। সরকার আপাতত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠিয়েছিল। এরপর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ৬৮ হাজার রোহিঙ্গার একটি ফিরতি তালিকা পাঠানো হয়। তালিকা ধরে যাচাই-বাছাই করতে গত মার্চে বাংলাদেশে আসেন মিয়ানমার সরকারের ১৭ প্রতিনিধি।

জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিনিধি দলটি রাখাইনে পৌঁছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে প্রস্তুতি সেখানকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ আলোচনা শেষে বিকালে টেকনাফে ফিরে আসেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রতিনিধি দলে তিন নারীসহ ২০ জন রোহিঙ্গা, একজন অনুবাদক ছয়জন বিভিন্ন দপ্তরের বাংলাদেশী কর্মকর্তা ছিলেন।

মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে সেখানকার পরিবেশ পর্যবেক্ষণে গিয়ে প্রতিনিধি দলের রোহিঙ্গা সদস্যরা বলেছেন, আমরা আমাদের দেশ মিয়ানমারে চলে আসতে চাই। কিন্তু আমাদের অধিকার আর নাগরিকত্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। এসব পেলেই আমরা মিয়ানমারে চলে আসব। মিয়ানমারে দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব দাবি তুলে ধরেছেন রোহিঙ্গারা। সময় শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা বলেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টা স্পিডবোটে সফর করে আমরা রাখাইনে প্রবেশ করি। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সীমান্তে আমাদের জন্য গাড়ি পাঠানো হয়। তারা আমাদের ভদ্রভাবে গ্রহণ করে।

এদিকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর একে একে পাঁচ বছর কাটিয়ে এখন ছয় বছরে রোহিঙ্গাদের জীবন। দিনের আলো নিভে গিয়ে সন্ধ্যা হলেই ভর করে আতঙ্ক। কখন গুম হয়ে যায়, আরসাসহ নিজেদের সন্ত্রাসীদের হাতে কখন প্রাণ যায় সেই ভয়ে তটস্থ থাকে সাধারণ রোহিঙ্গারা। তাই রোহিঙ্গারাও ফিরতে চায় স্বদেশে।

২০১৭ সালে নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ থেকে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা পাঠানো হয় মিয়ানমারের কাছে। তা থেকে ফেরত নিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম দফায় প্রায় হাজার ১৪০ জনকে নির্ধারণ করে মিয়ানমার। সেখান থেকে ৪২৯ জনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল দেশটি। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ১৫ সদস্যের একটি টেকনিক্যাল টিম বাংলাদেশের টেকনাফে এসে ৪৮০ জনের তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে ফেরত যায়। মিয়ানমারের টেকনিক্যাল টিম যাচাই-বাছাই করে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছিলেন শরণার্থী ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান প্রত্যাবাসন। প্রত্যাবাসন এর আগেও হয়েছিল কিন্তু সেগুলো টেকসই হয়নি। এবার টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টেকনিক্যাল টিমের যাচাই করে যাওয়া রোহিঙ্গাদের দিয়ে শিগগিরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

আরও