নোয়াখালীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ভবনে চলছিল পাঠদান। নানা তদবিরের পর অবশেষে ভবন নির্মাণের কাজে হাত দেয় এলজিইডি।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ভবনে চলছিল পাঠদান। নানা তদবিরের পর অবশেষে ভবন নির্মাণের কাজে হাত দেয় এলজিইডি। অনেক আকাঙ্ক্ষার পর নতুন ভবন পাবে এমন খবরে আনন্দিত নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর হরিনারায়ণপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সেখানে বাধ সেধেছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর বাধার মুখে গত মাসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ। ফলে বাধ্য পরিত্যক্ত ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরনো পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরটা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। পলেস্তরা খসে পড়ে এখন কিছু ইট আর রডে ভর করে আছে পুরো ভবন। সর্বশেষ দোতলার একটি কক্ষে ছাদের বড় অংশসহ ধসে পড়েছে একটি ভিমের অংশও। এতে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক অভিভাবক আতঙ্কে রয়েছেন।

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর হরিনারায়ণপুর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নামে বালিকা হলেও এখানে তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করছে। ১০ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে এরই মধ্যে অনেকে ছেড়েছে বিদ্যালয়।

তৃতীয় শ্রেণীর রাহাত বলে, প্রায় সময় তাদের বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। সম্প্রতি দোতলায় ছাদের বড় একটি অংশ এবং ভিম ভেঙে পড়েছে। তখন তারা দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। পলেস্তরা ধসের বিকট শব্দ শুনে তারা প্রাণে বাঁচতে ভবনের বাইরে চলে যায়।

মুন ইসলাম নামের তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী বলে, ওই দিনের ঘটনার পর তার মা তাকে আর বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না। সে নিজেও আসতে চাচ্ছে না, কিন্তু এখন ক্লাসের শেষ সময় এজন্য আতঙ্ক নিয়েই তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে।

সুফিয়া আলম বিথি রানী দাস নামে দুজন অভিভাবক বলেন, তাদের বাচ্চারা আতঙ্কে ভুগছে। ছাদের বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ার কারণে তারা আরো আতংকিত হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়েও তারা বাড়িতে আতঙ্কে থাকেন। সুফিয়া আলম বলেন, তার নাতি ইব্রাহিম খলিল ওই দিন ভয়ে বমি করেছে এবং তার জ্বর পর্যন্ত চলে এসেছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলেয়া বেগম বলেন, দীর্ঘদিন কর্তৃপক্ষের দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দিয়ে অবশেষে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ভবন নির্মাণের জন্য আগস্টের শেষ দিকে কাজও শুরু করে এলজিইডি। কিন্তু হঠাৎ করে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নানা অজুহাত দেখাতে থাকেন, কখনো বলেন জায়গা তাদের। আবার কখনো বলেছেন আবাসিক এলাকার অন্য কোনো অংশে বিদ্যালয়ের জন্য জায়গা দেবেন। এভাবে নানা কথা বলে কাজ বন্ধ রেখেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটতে পারে।

প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, প্রায় ৭০ বছরের পুরনো বিদ্যালয়। এটি কোনো বেসরকারি বিদ্যালয় নয় কিংবা কোনো ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখল করেনি। সরকারি জায়গায় সরকারি বিদ্যালয় নির্মাণ হবে এতে কেন বাধা দেবেন, তা তার বোধদয় হচ্ছে না।

বিষয়ে এলজিইডির নোয়াখালী সদর উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ জানান, সব প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাইলিং শুরুও করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গণপূর্ত বিভাগ থেকে সম্পত্তি তাদের দাবি করে একটি চিঠি দিয়ে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন কথা বলছেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সা মোহাম্মদ আন্দালিব। তিনি বলেন, সরকারি আবাসিক এলাকায় বর্তমানে একাধিক ভবন নির্মাণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই নতুন স্থান নির্ধারণে সাময়িক কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি। নতুন স্থান নির্ধারণ না হলে সাবেক স্থানে পুরনো ভবন ভেঙে বিদ্যালয় নির্মাণের অনুমতি দেবেন।

আরও