পাট উৎপাদনে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে কয়েক বছরে। সে তুলনায় বাড়েনি কৃষকের লাভ। চলতি মৌসুমে স্থানীয় হাটবাজারে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত দাম মিলছে না বলে অভিযোগ চাষীদের। তাদের দাবি, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় দাম নির্ধারণে কৃষকের দরকষাকষির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকিয়ে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে স্থানীয় হাটবাজারে নিয়মিত সরকারি মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুরের পাটচাষীরা।
সদর উপজেলার পেয়ারপুরের পাটচাষী ওমর বেপারি চলতি বছর তিন বিঘা জমিতে তোষা জাতের পাট আবাদ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। তিন বিঘা থেকে তিনি ১২ মণ পাটের আঁশ সংগ্রহ করেছেন। বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় যে লাভ হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নন ওমর বেপারি।
একই অবস্থা বলাইরকান্দি গ্রামের পাটচাষী রাজা গরিয়া ও হারুণ হাওলাদারের। রাজা গরিয়া বলেন, ‘এবার আমি এক বিঘা জমিতে তোষা পাট আবাদ করেছি। সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেখান থেকে ৪ মণ পাট পেয়েছি, যা প্রতি মণ ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। অনেক পরিশ্রমের পর যে টাকা থাকে, পরিশ্রমের হিসাব করলে এটাকে লাভ বলা যায় না।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পাটচাষী সরোয়ার হোসেন বাজারে নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সরকার যদি বাজারগুলোতে পাটের দাম নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করত, তাহলে কৃষকরা হয়তো একটু ভালো দাম পেতেন।’
একই দাবি জানিয়েছেন শিবচর উপজেলার উৎরাইলের পাটচাষী ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘গ্রামপর্যায়ের হাটগুলোয় পাটের দাম নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা দরকার। এতে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, ‘পাটের বাজার মূলত উন্মুক্তভাবে কৃষকরা স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দরকষাকষি করে বেচাকেনা করে থাকেন। এখানে আমাদের তেমন একটা ভূমিকা থাকে না। তবে পাটের দাম যাতে বাড়ে, সেজন্য আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাব।’
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন জানিয়েছেন, চলতি বছর জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এ জেলার পাঁচ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর জমি। সেখানে ৩৭ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।