কারিগরি শিক্ষায় ফাঁকা থাকছে ৭১ শতাংশেরও বেশি আসন

গত দুই শিক্ষাবর্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৭টি এবং আসন বেড়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৫টি। তবে একই সময়ে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫ জন।

দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও আসন সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আসন বাড়ানো হয়েছে। তবে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না শিক্ষার্থীর সংখ্যা। গত দুই শিক্ষাবর্ষের ব্যবধানে কারিগরি শিক্ষায় প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৭টি এবং আসন বেড়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৫টি, অথচ শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫ জন। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শিক্ষার ৩২টি শিক্ষাক্রমে মোট আসনের ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশই শূন্য ছিল।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শিক্ষার ৩২টি শিক্ষাক্রমে মোট আসনের ৭১ দশমিক ৩৪ শতাংশই শূন্য ছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮০০ আসনের মধ্যে শূন্য ছিল ৫৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৯৫০ আসনের মধ্যে শূন্য ছিল ৭৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গত দুই শিক্ষাবর্ষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৩৩৭টি এবং আসন বেড়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৫টি। তবে একই সময়ে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৫ জন।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আসন বাড়ানো, কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা, প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি এবং গত দুই বছরে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাসের হার কমে যাওয়া বিপুলসংখ্যক আসন শূন্য থাকার অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানের ঘাটতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার স্বল্পতাও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারিগরি শিক্ষায় মোট ৩২টি শিক্ষাক্রম রয়েছে। এর মধ্যে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ১০টি শিক্ষাক্রমে ১ হাজার ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭০০টি। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২ হাজার ৬৬টি প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ১৯ হাজার ১০০, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩ হাজার ৭৯২টি প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ ৭৬ হাজার এবং নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬৮২টি প্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার ৮০০ আসন রয়েছে। এছাড়া তিন থেকে ছয় মাস মেয়াদি স্বল্পমেয়াদি কোর্সে ৩ হাজার ৪৯৯টি প্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫০ এবং অন্যান্য কোর্সে ২ হাজার ২০টি প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ আসন রয়েছে।

কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর লক্ষ্যে বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

বর্তমানে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত আসন পূরণ করতে পারছে না। রাজবাড়ী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন মৃধা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কম ভর্তির অন্যতম কারণ প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি। পাশাপাশি জোরালো মনিটরিং, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং কারিগরি শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দূর করাও জরুরি। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া গেলে শিক্ষার্থী ভর্তির সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

একই চিত্র দেখা গেছে ডিপ্লোমা পর্যায়েও। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯০ হাজার ৪২৪টি আসন শূন্য ছিল, যা মোট আসনের ৫২ দশমিক ৭২ শতাংশ। পরের শিক্ষাবর্ষে ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ও প্রায় ১৭ হাজার আসন বাড়লেও শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৩০ হাজার। ফলে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শূন্য আসন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩টিতে, যা মোট আসনের ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ শিক্ষাক্রমে শূন্য আসনের হার বেড়েছে ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ শিক্ষাক্রমে ২৯ হাজার ৫৫৬টি বা ৭৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ আসন শূন্য ছিল। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আরো চারটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পর শূন্য আসনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৪১৪টিতে, যা মোট আসনের ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে এ শিক্ষাক্রমে প্রতি ১০টি আসনের প্রায় নয়টিই শূন্য থাকছে।

শরীয়তপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, কিছু টেকনোলজিতে, বিশেষ করে ইমেজিং টেকনোলজিতে, শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগ্রহ তুলনামূলক কম। কয়েক বছর আগে এসব টেকনোলজিতে একসঙ্গে আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় আসন বেশি হওয়ায় কিছু আসন শূন্য থেকে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আসন খালি থাকার পেছনে এলাকাভিত্তিক কারণও রয়েছে। শরীয়তপুরে উচ্চ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক কম হওয়ায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভর্তির হার কম। পাশাপাশি চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কম থাকায় ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এসব কারণেও এ বছর শিক্ষার্থী ভর্তি কম হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমগুলোতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন শূন্য থাকছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এইচএসসি (বিএমটি) শিক্ষাক্রমে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৭১ হাজার ৮২৮টি বা ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ আসন শূন্য ছিল। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন ৩৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পর শূন্য আসনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৭৪টিতে, যা মোট আসনের ৬৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৫৬৯টি বা ৬০ দশমিক ৪৫ শতাংশ আসন শূন্য ছিল। পরের শিক্ষাবর্ষে আরো ২৪০টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পর শূন্য আসনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৪৩টিতে, যা মোট আসনের ৬৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩১ হাজার ৯০৮টি বা ৮৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ আসন শূন্য ছিল। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন ছয়টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলেও শূন্য আসনের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৬৪৯টি বা ৮৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অনুমোদিত আসন বাড়িয়ে লাভ হবে না, যতক্ষণ না শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার এ শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান ও ভালো আয়ের বিশ্বাসযোগ্য সংযোগ দেখতে পাচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার নিম্নমানও বড় সমস্যা। এ কারণেই অভিবাসী কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে এ খাত প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ উচ্চ শিক্ষার প্রসারও কারিগরি শিক্ষায় কম ভর্তির একটি কারণ। কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিকে সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে এগিয়ে রাখা হয়। ফলে কারিগরি শিক্ষাকে অনেক সময় আর্থিক ও একাডেমিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের “শেষ ভরসা” হিসেবে দেখা হয়। এ মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফল ও সম্মানজনক পেশাগত উন্নতির পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি কর্মমুখী প্রশিক্ষণ চালু করা হলেও সেখানেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। ছয় মাস বা ৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদি ‘জাতীয় দক্ষতামান বেসিক’ শিক্ষাক্রমে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪৩টি বা ৬৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসন শূন্য ছিল। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আরো ৮৯টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার পর শূন্য আসনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ১৪৩টিতে, যা মোট আসনের ৭১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) কার্যকর প্রসারে বৈশ্বিক, জাতীয় ও অঞ্চলভিত্তিক কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও বাজারভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্পের বাস্তব চাহিদা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের প্রবণতা বিবেচনায় না নিয়ে গতানুগতিক শিক্ষাক্রম চালু রাখায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তন, দেশীয় শিল্পের প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং অঞ্চলভিত্তিক বিশেষায়িত সুযোগের সমন্বিত ম্যাপিং প্রয়োজন। সেই চাহিদার ভিত্তিতে মানসম্পন্ন ও প্রয়োগমুখী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা গেলে কারিগরি শিক্ষা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও টেকসই ভূমিকা রাখতে পারবে।’

কারিগরি শিক্ষায় আসন শূন্য থাকার অন্যতম কারণ আসন সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থী কম থাকা বলে মনে করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিকের সব পর্যায় মিলিয়ে মোট আসন আছে প্রায় ৩৪ লাখ, অথচ পাস করছে ১৫-১৭ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে সব প্রতিষ্ঠানে আসন পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পঞ্চম শ্রেণীর পর থেকেই প্রতি শ্রেণীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আসন বেশি শূন্য থাকছে। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন বা অধিভুক্তি নিলেও বাস্তবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে না; কাগজে-কলমের বাইরে তাদের কার্যক্রম নেই। সরকারি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এখনো প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং এসএসসি ভোকেশনালসহ অন্যান্য শিক্ষাক্রমে প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষায় শূন্য আসনের হার তুলনামূলক বেশি।’

কারিগরি শিক্ষা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। এ অবস্থার পরিবর্তনে আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। এতে শিক্ষক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কে আগেভাগে জানার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এতে তারা বিভিন্ন ট্রেড সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিষয় বেছে নিতে পারবে।’

আরও