ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়েছেন—ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ারসহ বহু পেশার মানুষ। এর মধ্যে ১২ জন চিকিৎসক পেয়েছেন তাদের কাঙ্ক্ষিত জয়। কেবল চিকিৎসাসেবার গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে এবার আইনপ্রণেতা হিসেবে জনসেবায় মনোনিবেশ করার অপেক্ষায় আছেন তারা।
এ ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।
কুমিল্লা-১১ আসনে জয় পেয়েছেন একই দলের ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট।
যশোর-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোছা. সাবিরা সুলতানা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ১২২টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট।
ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
৩ লাখ ৪০ হাজার ৪৯ ভোটারের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ১ লাখ ৪ হাজার ৩২ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. কেএম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএইচ খান মঞ্জু পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনটিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী। ১১৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুর রাকিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৮১৪ ভোট। বেসরকারি ফলাফলে ৩৬ হাজার ৯৮৭ ভোটের ব্যবধানে ইকরামুল বারী বিজয়ী হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী এমএ মুহিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ১৫০টি। সব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট।
দিনাজপুর-৬ (হাকিমপুর, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট।
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। ১২১টি কেন্দ্রে ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন পেয়েছেন ৯৮ হাজার ২২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৬১৭ ভোট।