প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের মাঝে সমতা আনতে অভিন্ন পোশাক ও দুপুরের খাবার চালু করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। আজ রাজধানীর বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে বর্তমানে ৪৭টি বিয়াম প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেয়া হবে। এসময় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবনী শিক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আইনের শাসন এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করছে। মাত্র আট মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ করা, রেমিট্যান্স ও রফতানি বৃদ্ধি এবং কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে সরকার দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মো. আব্দুল বারী বলেন, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ায় মন দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর একা একা বাইরে না থাকা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি মানবিক হয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল কাজে লাগিয়ে আজকের মেধাবী তরুণরাই দেশকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাবে। এজন্য কেবল জিপিএ-৫ এর পেছনে না ছুটে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের কল্যাণে মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা অর্জন করতে হবে। একইসঙ্গে কিশোর অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে থাকা, বিপথগামীদের সৎপথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মা-বাবার ত্যাগের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানান।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আবদুল মালেক। এসময় অধ্যক্ষ মো. সাজ্জাদুর রহমান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কলেজের ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।