বাড়ছে নদ-নদীর পানি

কুড়িগ্রামে ভাঙন আতঙ্কে হাজারো পরিবার

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বাড়ছে।

সেই সঙ্গে তীব্র হয়ে উঠেছে নদীর পাড় ভাঙন। আবাদি জমি গ্রাস করে নদী চলে আসছে বসতভিটার কাছে। প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। এদিকে গোলামখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম।

সরজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার বুড়িবুড়ি ও হাতিয়া ইউনিয়নের সীমানা বরাবর জলংগার কুঠি এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারব্যাপী ভাঙছে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর। এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে ১০টি বাড়ি। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে দুই হাজার পরিবারসহ দুটি আবাসন ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এছাড়া কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলা, ফুলবাড়ী উপজেলার গোড়কমণ্ডলসহ রাজারহাট, নাগেশ্বরী ও চিরমারীর ১৫টি পয়েন্টে ভাঙছে ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীপারের অনেক পরিবার পাঁচ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলেও সরকারের কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। এবার বসতভিটা হারালে তাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না।

উলিপুরের বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের জলংগার কুঠি এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘১৫-২০ দিনের মধ্যে আমাদের ভিটাও নদীতে চলে যাবে। তখন সন্তান, ঘর-বাড়ি নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব?’

ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলার ভাঙনপ্রবণ পাঁচটি নদীর দুই পাড়ের দৈর্ঘ্য ৩৭৪ কিলোমিটার হলেও মাত্র ৬৬ কিলোমিটার এলাকা সুরক্ষিত। ভাঙনের কথা স্বীকার করে এলাকাভিত্তিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ১৫টি ভাঙনকবলিত পয়েন্টের মধ্যে ছয়টিতে জরুরি কাজ চলছে। বর্ষায় ভাঙনরোধে এক লাখ জিও ব্যাগ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, গুরুত্ব বিবেচনা করে বাকি এলাকায় কাজ করা হবে।

এদিকে গোলামখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। বারহাট্টার বাউশি ইউনিয়নের সাধুয়ারকান্দা, হাঁটখলা, চানপুর, নতুন শেখেরপাড়া ও দেওপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন চরম ঝুঁকিতে।

দীর্ঘদিনেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সাধুয়ারকান্দা এলাকায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে শতাধিক নারী-পুরুষ মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

আরও