নৌমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরসিসি চেয়ারম্যানের বৈঠক

অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার লক্ষ্যে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপির সঙ্গে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেনের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মন্ত্রণালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বাংলাদেশে অবকাঠামো খাতে চীনের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বৃহৎ ও মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহী।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সিআরসিসির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে সিআরসিসিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বৈঠকে সিআরসিসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের সড়ক, রেলওয়ে ও সামুদ্রিক অবকাঠামো খাতে প্রতিষ্ঠানটির চলমান সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সিআরসিসির বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের আগ্রহ জানান।

বৈঠকটিতে বিশেষভাবে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, প্রস্তাবিত মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, কৌশলগত মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশের বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

এতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক সচিব, সেতু বিভাগের সচিব, রেলওয়ে সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও