দেশের চাহিদার সিংহভাগ সবজি সরবরাহ করেন যশোরের চাষীরা। তবে টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজির খেত ও বীজতলা। কয়েক দফায় সবজির চারা রোপণ করেও বাঁচানো যায়নি। বারবার সবজি চাষে ৪০-৫০ শতাংশ খরচ বেড়েছে। এছাড়া দেরিতে রোপণ করায় শীতের আগাম সবজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এবার কৃষক পর্যায়ে সবজির দাম বেড়েছে।
চাষীরা বলছেন, বেশ কয়েকবার বৃষ্টির কারণে সবজিখেত নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এতে খরচ ওঠাতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশা, দ্রুতই সবজি সরবরাহ বাড়লে দামও ক্রেতার নাগালে চলে আসবে।
সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ও বারিনগর হৈবতপুরের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে এখন খেতে সবজি থাকার কথা, সেখানে ফলনই নেই। যাও আছে অন্য বছরের তুলনায় কম।
হৈবতপুর গ্রামের কৃষক আলতাপ হোসেন বলেন, ‘যে সময়ে জমিতে সবজি থাকার কথা, সেই সময়ে চাষ শুরু করছি। এতদিন বৃষ্টির কারণে আবাদ করতে পারিনি। দুই মাস ধরে জমি পড়ে ছিল। জমিতে চাষ দিলেই বৃষ্টিতে জো (মাটির উর্বরতা) নষ্ট করে দেয়।’
পাশেই রয়েছে জুম্মন আলীর জমি। তিনি বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে মূলা চাষ করেছিলাম। প্রথমবার বীজ বপনের সপ্তাহখানেক পর জমিতে হাঁটুসমান পানি। এতে প্রথমবার সব চারা নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়বার বপন করলেও বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। তৃতীয়বার কিছুটা ফলন হয়েছে। এখন কিছু কিছু করে মূলা বাজারে বিক্রি করছি। তবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছি না।’
বৃহৎ সবজি বাজার যশোরের সাতমাইল-বারিনগর। যশোর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সবজির এ হাট। প্রতিদিন বসছে এই সবজির হাট। ট্রাকে সবজি ওঠানোর কাজে ব্যস্ত ব্যাপারী ও শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য বছর এ সময় হাটের দিনে ৩০-৩৫টি ট্রাকে সবজি ওঠানো হতো। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা শহরে সবজি পাঠানো হতো। এ বছর সবজির সরবরাহ কমে গেছে।
গতকাল সাতমাইল বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ (দেশী) বিক্রি হয়েছে ৪২০ টাকা অথচ এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৩৯০ টাকা। একইভাবে করলার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, বেগুনের দাম ৮০-৯০, কাঁকরোল ৭০-৭৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে পেঁপের দাম কমে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া শসা প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০, মূলা ৫০ ও শিম ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সবজি ব্যবসায়ী মতিয়ার হোসেন বলেন, ‘এক মাস ধরে বাজারে সবজির সরবরাহ কম। বছরের এ সময় প্রতি হাটে ৫০-৬০ ট্রাক সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। এখন যাচ্ছে ১০-১২ ট্রাক। সরবরাহ কম থাকায় দামও চড়া।’
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, ‘এ বছর অসময়ে অতিবৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজির উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমেছে। শুক্রবারও যশোরে ১৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাতে বাজারে সবজির দাম আরো বেড়েছে। তবে কৃষক আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। দ্রুতই সরবরাহ বাড়বে।’