পরিবারের সদস্যরা জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও সম্প্রতি নিউমোনিয়াজনিত সংক্রমণের পর তার অবস্থার আবার অবনতি ঘটে।
বাংলাদেশের ‘পাপেট ম্যান’ নামে পরিচিত মুস্তাফা মনোয়ার দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয়া এ শিল্পী পাপেট্রি, চিত্রকলা, ভিজ্যুয়াল আর্ট, টেলিভিশন এবং শিশুতোষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পথিকৃৎ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার সৃজনশীল কাজ দেশের কয়েক প্রজন্মের শিশুদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে স্থায়ী প্রভাব রেখেছে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে মুস্তাফা মনোয়ার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেন।
আজ সকাল ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তার সৃষ্টিকর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চিরদিন অনুপ্রাণিত করবে বলে শোকবার্তায় জানিয়েছেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যু দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল চর্চায় যে অনন্য অবদান রেখে গেছেন, তা জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’