দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চিকিৎসক ও জনসংখ্যার আদর্শ অনুপাত নিশ্চিত করতে দেশে বর্তমানে আরো প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
গতকাল জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বগুড়া-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বেলা ৩টা ২ মিনিটে জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় চিকিৎসকদের মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক সেবা প্রদান করছেন। ফলে বর্তমানে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের সার্বিক জনসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের পদ নিরূপণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনশক্তিসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়ে থাকে।’
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘দেশে নিবন্ধিত মোট চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর শূন্য পদ পূরণ এবং চিকিৎসকের সংকট কাটাতে সরকার এরই মধ্যে জোরদার নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৪৪তম ও ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।’
সরকারি হাসপাতালগুলোর শূন্য পদ পর্যায়ক্রমে পূরণ করতে এ ধারাবাহিক নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
দেশের প্রান্তিক ও সার্বিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত এবং জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নতুন নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।