বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয়

দেশ আসলে সবার নয় ক্ষমতায় যে থাকে তাদের

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আমরা স্বৈরাচারকে সরালাম। কিন্তু এখনো নিশ্বাস নেয়ার জায়গায় সংকুচিত অনুভব করি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘আমরা স্বৈরাচারকে সরালাম। কিন্তু এখনো নিশ্বাস নেয়ার জায়গায় সংকুচিত অনুভব করি। গত এক বছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ওএমএসে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করা হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে কিছুটা স্বস্তি দিতে শহুরে মানুষকে সুরক্ষা বেশি দেয়া হয়েছে। গ্রামের মানুষের প্রতি নজর কম ছিল। দেশ আসলে সবার নয়। ক্ষমতায় যে থাকে তাদের। প্রশ্ন হলো, আপনি কার পক্ষে কথা বলবেন? যে পিছিয়ে আছেন, তার পক্ষে।’

গতকাল ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি আরো বলেন, ‘এটি সময়োপযোগী একটি কাজ ও অর্থনৈতিক সাংবাদিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বইটি প্রাসঙ্গিক ও সমসাময়িক।’

বইটি লিখেছেন দৈনিক প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন মাসুম। বইটি প্রকাশ করেছেন ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। অনুষ্ঠানটি হয়েছে প্রকাশনী সংস্থার কার্যালয়ে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শারমিন্দ নীলোর্মি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল সেন্টার ফর ইনোভেশন অ্যান্ড লার্নিংয়ের উপদেষ্টা রাদিয়া তামিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্র ও মালিক পক্ষকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। আগে পাঠককুল এত উগ্র ও আগ্রাসী ছিলেন না। পাঠককুলের মধ্যে ক্ষুদ্র ও অতি উচ্চ স্বরের এক শ্রেণী আছেন, যারা এখন গণমাধ্যম বন্ধ করতে দিতে চান।’

বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘লেখকের লেখায় ছিল তথ্যের দায়বদ্ধতা ও সাহিত্যরস। এটি সময়োপযোগী একটি কাজ এবং অর্থনৈতিক সাংবাদিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বইটি প্রাসঙ্গিক ও সমসাময়িক। প্রকাশক দায়িত্ববোধ থেকেই বইটি বের করেছেন।’

সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র ও টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এ দুই প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের আগ্রহ নেই।’ তিনি মনে করেন, আমলা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি সংস্কারবিরোধী জোট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না। ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, ওইসব রাজনৈতিক দলকে অর্থনৈতিক চলকগুলো নিয়ে তাদের চিন্তাভাবনা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা উচিত।’

আরও