শুধু মার্কেটিং টার্ম নয়, গ্রিন হাউজিংকে প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখতে হবে: শ্রাবন্তী দত্ত

শ্রাবন্তী দত্ত বলেন, ‘আমাদের ওপর দুই দিক থেকে চাপ থাকে। একটি হলো রাজউক বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা। আরেকটি হলো ভবনের মান নিশ্চিত করা। শুধু মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব একটি পক্ষের ওপর ছেড়ে দিলে কাজে বিচ্যুতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভবন নির্মাণে মান নিশ্চিত করা, নিয়ম মেনে চলা, সনদ দেয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যথাযথ তদারকি খুবই প্রয়োজন।’

গ্রিন হাউজিংকে শুধু জারগন বা মার্কেটিং টার্ম হিসেবে না দেখে প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন এবিসি রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শ্রাবন্তী দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ এবং ঢাকা শহর এখন যেকোনো ধরনের পরিসংখ্যান বা পরিবেশগত বিবেচনায় যে অবস্থায় আছি, সেখানে আমাদের সব স্টেকহোল্ডারের জন্য গ্রিন হাউজিং বিষয়টাকে শুধু একটা জারগন বা মার্কেটিং টার্ম হিসেবে না রেখে এটাকে একটি এসেনশিয়াল, অর্থাৎ নেসেসিটি হিসেবে বিবেচনা করার সময় চলে এসেছে।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্যানেল আলোচক হিসেবে এবিসি রিয়েল এস্টেটের এমডি এসব কথা বলেন। কনক্লেভে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের এখানে র্যাপিড আরবানাইজেশন হচ্ছে। আমাদের জমি কমে যাচ্ছে। সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক। অন্য যেসব শহর এখন উন্নত করছে, সেখানেও আমরা ঢাকায় যে ভুল করেছি, সেগুলো পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আমরা গত কয়েক মাস ধরেই বুঝতে পারছি, আমাদের জ্বালানি সংকট কোন জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে।এ বিষয়গুলো চিন্তা করার পর যখন আমরা গ্রিন হাউজিং ফ্রেমওয়ার্ক বা পলিসিগুলো তৈরি করব, সেটাকে যদি আমরা ব্যয়বহুল বিল্ডিং মডেলে নিয়ে যাই, তাহলে এ বিল্ডিংগুলো শেষ পর্যন্ত বিলাসবহুল পণ্য হয়ে যাবে। যারা সবচেয়ে বেশি পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করে, যারা জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে চায়, তারা কখনোই সেই আবাসন অ্যাফোর্ড করতে পারবে না।’

শ্রাবন্তী দত্ত বলেন, ‘আমাদের ওপর দুই দিক থেকে চাপ থাকে। একটি হলো রাজউক বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা। আরেকটি হলো ভবনের মান নিশ্চিত করা। শুধু মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব একটি পক্ষের ওপর ছেড়ে দিলে কাজে বিচ্যুতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভবন নির্মাণে মান নিশ্চিত করা, নিয়ম মেনে চলা, সনদ দেয়া এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যথাযথ তদারকি খুবই প্রয়োজন।’

‘আরেকটি দিক হলো মার্কেট কী চাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত আমরা মার্কেটকে বোঝাতে না পারব যে, সে যখন একটা অ্যাপার্টমেন্ট বা বিল্ডিংয়ের গ্রিন আবাসন কিনছে, তখন এর জন্য যে বেশি দাম দিচ্ছে, সেটার বিনিময়ে পরবর্তী বছরগুলোতে তার খরচ কমবে। যেমন—প্রতি মাসে তার ইলেকট্রিসিটি বিল, ওয়াটার কনজাম্পশনসহ প্রত্যেকটি জায়গায় সে কতটা সেভিংস করছে—এটার যদি কোনো কোয়ান্টিফিকেশন বা মেজারমেন্ট না থাকে, আমরা যদি তাকে সেই দৃশ্যটা দেখাতে না পারি, তাহলে সে কখনোই আগ্রহী হবে না।’

আরও