সায়মা ওয়াজেদকে ছুটিতে পাঠিয়েছে ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক অফিসের (সিয়ারো) আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হেলথ পলিসি ওয়াচ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক অফিসের (সিয়ারো) আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে হেলথ পলিসি ওয়াচ।

এর চার মাস আগে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা করে।

হেলথ পলিসি ওয়াচ বলছে, ডব্লিউএইচওর এক সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহ্যানম গেব্রেইসুস এ তথ্য জানান। ই-মেইলে ডব্লিউএইচওর প্রধান উল্লেখ করেন, সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে থাকবেন। তার জায়গায় সহকারী মহাপরিচালক ক্যাথারিনা বেম ‘ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অনির্দিষ্টকালের ছুটিকে আমরা জবাবদিহিতার পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রেস সচিব লিখেছেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এর একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, যেখানে সায়মা ওয়াজেদকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হবে, তার সব সুযোগ-সুবিধা বাতিল করা হবে এবং এ মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বের সততা ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা হবে। বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ববাসী স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায়বিচারের এ উদ্যোগে আনন্দিত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ গত আগস্টে দেশত্যাগ করেন। তার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুদক আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রচারণার সময় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করেন। এ কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৬৮ ধারা (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) ও ৪৭১ ধারা (জাল দলিল ব্যবহার) লঙ্ঘন করে।

দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক পদে নিযুক্ত থাকার যে দাবি করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। এ মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে তিনি ডব্লিউএইচওর পদটি লাভ করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া সায়মা ওয়াজেদ তার ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে সূচনা ফাউন্ডেশনের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের অভিযোগেও অভিযুক্ত। তবে এ অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে দুদক বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এ অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি গ্রহণ), ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা।

আরও