লালন সাঁইয়ের মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন ধারণ করে মানবিক সমাজ গড়তে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লালন সাঁই তার গানের মাধ্যমে ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মিলনের কথা বলেছেন। তার অমর বাণী ও গানের মধ্যে মানবতা, সততা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং জীবনের মূল্যবোধের শিক্ষা রয়েছে। এসব শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি মানবিক ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

লালন সাঁই শুধু একজন বাউল সাধক নন, তিনি মানবতার সাধক, অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক এবং সম্প্রীতির এক অনন্য কণ্ঠস্বর বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, লালন সাঁইয়ের দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষের মর্যাদা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তার দর্শন ধারণ করে ঘৃণা ও বিদ্বেষমুক্ত, সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

আজ শনিবার মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, লালন সাঁই তার গানের মাধ্যমে ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মিলনের কথা বলেছেন। তার অমর বাণী ও গানের মধ্যে মানবতা, সততা, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং জীবনের মূল্যবোধের শিক্ষা রয়েছে। এসব শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি মানবিক ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে পরিচয়ের কারণে কেউ অবহেলার শিকার হবে না, ধর্মের কারণে কেউ বৈষম্যের মুখে পড়বে না এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। দীর্ঘদিনের বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষ পেছনে ফেলে দেশের মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। বিশেষ অতিথির০ বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সরোয়ার আলম। এছাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জাসাসের মানিকগঞ্জের সভাপতি বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইফুল ইসলাম। আলোচনা শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও নজরুলের সৃষ্টিকর্মবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ সময় তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এরপর খাদ্যমন্ত্রী মানিকগঞ্জের গঙ্গাধরপট্টি এলাকার স্বর্গীয় নিখিল বন্ধু ভট্টাচার্য ও স্বর্গীয় অমিয় ভট্টাচার্য সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির এবং শ্রী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকারের বাসভবনে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার এবং তাদের ন্যায্য সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থান বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আরও