‘ইন্টেলেকচুয়াল ডিসকাশনের চাইতে গণসংলাপ দরকার। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হলো, একটা গণবিপ্লবের পর যারা ক্ষমতায় আসলেন, আর যারা ক্ষমতায় আসতে চাইতেছেন ভবিষ্যতে, তারা সবাই নিজের নিজের বহুদূরের দ্বীপে বসে কথা বলছেন ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যেন আশপাশে কেউ নেই। মানুষের অভিপ্রায় জানতে কেউ একটা গণসংলাপের আয়োজন করা জরুরি মনে করে নাই। এই দ্বীপটা ভাঙুন। মানুষের অভিপ্রায় জানতে, সবার আগে গণসংলাপ ডাকুন ও ফ্যাসিস্টের রাজনীতির অধিকার ও নতুন সংবিধান প্রশ্নে প্রয়োজনে গণভোট আহ্বান করুন।’
চিন্তা ও ফিকিরের সংঘ ফকিরির আয়োজনে রুহ, মুক্তি ও সংবিধান শীর্ষক আলাপ ও আড্ডা অনুষ্ঠানে লেখক ও বুদ্ধিজীবী রিফাত হাসান এসব কথা বলেন।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমি মিলনায়তনে রুহ, মুক্তি ও সংবিধান শীর্ষক এ আলাপ ও আড্ডার আয়োজন করা হয়।
জুলাই জেনোসাইড প্রসঙ্গে রিফাত হাসান বলেন, ‘জুলাই জেনোসাইডের পরে জেনোসাইডকারীদের রাজনীতির অধিকার আছে কিনা, তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নে কেবল বিএনপি আর জামায়াতের ছোট বড় কায়েমি নেতা আর ব্যবসায়ীরাই স্টেকহোল্ডার না। স্টেকহোল্ডার সাধারণ মানুষ। এই আম জনতার মতামত ছাড়া আপনারা কোন অথরিটিতে ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসনের পক্ষে কমিশন করেন ও রায় দেন?’
তিনি বলেন, ‘ইন্টেলেকচুয়াল আলাপ আমরা গত পনেরো ষোল বছর বসে বসে করেছি। আমাদের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি এখনও যদি স্পষ্ট না হয়, এখন আর আপনাদের বুদবুদ শুনে কাজ নেই। আপনারা আবার একই সা রে গা মা পা-তে নাকানি চুবানি খাচ্ছেন, এর অর্থ পুরনো ফুলের বাগানের প্রতি আপনি স্মৃতিকাতর, যা আমরা হাসিনার আমলে ফেলে আসছি। মেনে নিন, তা আর ফিরে আসবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশের যে দর্শনগত জায়গা, তা এর আগের দর্শনগত জায়গার সঙ্গে এক না। এই অভ্যুত্থান হাসিনা ও বাকশালের কলোনি ব্যবস্থার অনেকগুলো ভ্যালু অস্বীকার করেছে ও গুড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৭১ এর জন-মুক্তির যুদ্ধে বিজয়ের পরে আমাদের মুক্তি ও রুহের জায়গাটা লিমিট করে দিয়েছিল বাহাত্তরের সংবিধান। তার পরিবর্তে ঢুকিয়েছিল চার মূলনীতি, আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ, যা মূলত অনন্ত ন্যায়যুদ্ধের বীজগণিত হিসেবে কাজ করেছে। এই বীজগণিত মূলত অন্যায় যুদ্ধ ও ফ্যাসিস্টদের অনন্ত গণহত্যার দ্বার উন্মুক্ত করেছিল। ফলে রাষ্ট্র ও সংবিধানের সঙ্গে আমাদের টুটে যাওয়া রুহ ও চব্বিশে যে জনমুক্তির অভিপ্রায় টের পাওয়া গেছে, তার সংযোগ ঘটাতে না পারলে, এই অভ্যুত্থান অনর্থ হবে।’
ফকিরির সদস্য ওয়াহিদ রোকনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সিলেটের কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।