পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি সদরের সিঙিনালায় এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্বত্য জনপদ। গতকাল ও রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় অবরোধ, সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এরমধ্যেই রোববার সন্ধ্যায় গুইমারায় সহিংসতার ঘটনায় তিন জন নিহতের খবর এল। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন
এদিন সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি শহরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টহলের মধ্যেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাজারে পাহাড়ি-বাঙালিদের বেশ কয়েকটি দোকানপাট পুড়ে গেছে। সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩-১৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
খাগড়াছড়ি সদরের সিঙিনালা থেলে শুরু হওয়া ধর্ষণ ও নারীনিপীড়নবিরোধী আন্দোলনের প্লাটফর্ম 'জুম্ম ছাত্র-জনতা'র ফেসবুক পেজে এক বার্তায় রোববার দুপুরে জানানো হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর হতে খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হচ্ছে। কিন্তু খাগড়াছড়িজুড়ে বিশেষ করে পানছড়ি সড়ক ও দীঘিনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক ঘরবাড়ি তল্লাশি, মারধর ও ধরপাকড়ের অভিযোগ তুলেছে তারা। বার্তায় আরো জানায়, একই সঙ্গে গুইমারায় পরিকল্পিতভাবে দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালাচ্ছে, নিরীহ ও নিরস্ত্র শিশু, নারী ও পুরুষদের ওপর গুলি বর্ষণ করছে, যা এখনো চলমান। যদিও এ ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা- এ সংক্রান্ত কিছুই জানায়নি তারা। অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি নিয়েও নতুন কোনো বক্তব্য আসেনি।
খাগড়াছড়ির গুইমারায় রোববারের ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে জানতে খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বণিক বার্তাকে জানান, আজকে খাগড়াছড়ি আধুনিক হাসপাতালে আহত চিকিৎসাধীন এসেছেন ৪ জন। আর ৩ জনের মরদেহ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্ভবত গুইমারা থেকেই। নিহতদের ময়নাতদন্ত করা হবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজারে স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষের জের ধরে পাশের জেলা রাঙামাটিতেও সাম্প্রদায়িক হামলা, সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনা ঘটে।