ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের
(ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ১০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে মামলার আবেদনটি খারিজ করেছেন আদালত। আজ রোববার
(২২ জানুয়ারি) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের
বিচারক রাজেশ চৌধুরী মামলার আবেদনটি খারিজ করেন।
গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। ওই সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানের পর ডিবি প্রধান
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয়
কার্যালয় থেকে ৩০০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে
বিস্ফোরক ও ককটেল পাওয়া গিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত
৫০ সদস্য আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের ঘটনায় পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পুলিশের করা আলাদা চার মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২ হাজার ৯৭৫ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে
নাম উল্লেখ করা হয় ৭২৫ জনের। প্রতিটি মামলায়ই আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা,
সরকারি কাজে বাধা ও বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।
দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায়
মামলার আবেদনটি করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন। পরে বাদীর
জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত।
অভিযোগের বর্ণনায় নাজিম উদ্দিনের
আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর
পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ১০ পুলিশ সদস্যের
বিরুদ্ধে আদালতে মামলা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। আদালত মামলা নেওয়ার আবেদন খারিজ
করেছেন।
এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করা হয়, ৭ ডিসেম্বর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি হামলা হয়। সেদিন পুলিশের
ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢোকেন। তারা
বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালান। মালামাল লুট করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে
ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ৫১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে
বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ।