এজন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এ-সংক্রান্ত দাবি আনুষ্ঠানিকভাবেই উপস্থাপন করেছে তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে এখনো ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবিতে অনড় রয়েছে দলটি। পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে জনমত গঠনের চিন্তাভাবনা করছে দলটি। এ কার্যক্রম চালাতে ঈদুল আজহার চলতি টানা ১০ দিনের ছুটিকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখছেন তারা।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের ওপর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চাপ তৈরির সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিএনপি এরই মধ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়ে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ জনগণকে তাদের দাবির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঈদুল আজহার ছুটিকে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আদায়ে বাগেরহাট জেলার রামপাল ও মোংলায় জনসংযোগ শুরু করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম। নিয়মিত সভা-সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে সেলফোনে তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলে আসছি সংস্কারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা নির্বাচন চাই। আজকের বাংলাদেশে বহুবিধ রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাণিজ্যের ঘাটতি, দেশে বিনিয়োগ আসছে না। অনির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় সংকট নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। তৃণমূল থেকে শুরু করে সারা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে এ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে মানুষের অধিকার আদায় করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, অর্থনৈতিক উন্নতিসহ দেশের সমৃদ্ধি অর্জন করতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।’
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে জনমত গঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলটির তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জনমত গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান একটি অরাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় কী কী সংকট তৈরি হয়েছে এবং এ সরকারের মেয়াদ আরো দীর্ঘায়িত হলে আরো কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে সেগুলো সাধারণ মানুষকে বোঝানো হচ্ছে।
গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সে নির্বাচন অনুষ্ঠান—এ দুটি বিষয়ে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সরকার যদি বিএনপির প্রস্তাবিত সময়সীমা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন না করে, তাহলে বিকল্প কৌশলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য তারা বিভিন্ন স্তরে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে এবং নির্বাচনের দাবিতে একটি গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিএনপির কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র লড়াইয়ের সংগ্রামে মাঠে রয়েছি। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। দেশের জনগণের কাছ থেকে দাবি আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের। এ ব্যাপারে আমরা প্রত্যাশা করি ঈদের পর সবার মতামতের ভিত্তিতে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করবে সরকার। আমাদের রাজনীতিটা তৃণমূলনির্ভর। এ দাবিটা তৃণমূল থেকেই এসেছে।’