বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি সংকট বিদ্যমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সমাধান ছাড়া অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না।
সুজনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক সংস্কার’ শীর্ষক একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন বদিউল আলম।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের সংকট বিদ্যমান রয়েছে। এই তিনটি সংকটের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে সুশাসনের অভাব প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।
আরো বলেন, সরকারের আশীর্বাদপুষ্টরা যে যেখানে পারছে গোষ্ঠীতন্ত্র কায়েম করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এই সংকটে আইএমএফের ঋণ ফুটো কলসি সিনড্রোম বা ছিদ্রযুক্ত কলসিতে পানি ঢালার মতোই হতে পারে। অর্থাৎ ফুটো কলসিতে পানি যতই ঢালা হোক তাতে যেমন কলসি ভরবে না, তেমনি রাজনৈতিক তথা গণতন্ত্রের ঘাটতি পূরণ অর্থাৎ জনগণের ভোটাধিকার ফেরত প্রদান এবং দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের লাগাম টানা সম্ভব না হলে অর্থনৈতিক সংকট থেকেই যাবে।
সুজনের পক্ষে ২১ দফা রাজনৈতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন বদিউল আলম মজুমদার। প্রস্তাবগুলো হলো- রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, নির্বাচনকালীন সরকার, কার্যকর জাতীয় সংসদ. স্বাধীন বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা. আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক মানসিকতার অবসান, তরুণদের জন্য বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন।
অনুষ্ঠানে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আইএমএফের কাছে এখন রাজনৈতিক সংস্কারের চেয়ে অর্থনৈতিক সংস্কারই প্রাধান্য হবে। আগামী নির্বাচন সামাল দিতে না পারলে সামনে বিশাল সংকট দেখা দিবে। তাই আমাদের সবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে হবে। সামনের নির্বাচন সঠিকভাবে করতে হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে আমাদের কিছু কাজ করতে হবে। সেগুলো হলো- বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমানো, মূল্যস্ফীতি কমানো, বিনিময় হার স্থিতিশীল করা। এই সংকটে মুদ্রানীতিকেও বাস্তবায়ন করতে হবে।
সমঝোতার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় শাসন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, এখন আমাদের সব দলগুলোকে ভাবতে হবে সমঝোতার মাধ্যমে কীভাবে নির্বাচন করা যায়। আমাদের দেশে কার্যকর বিরোধী দল নেই। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা কার্যকর বিরোধী দল তৈরি করতে পারব। একইসঙ্গে আইএমএফের ঋণ পেলে ব্রিদিং স্পেস তৈরি হবে। তবে এই টাকা রফতানি বৃদ্ধি, রেমিটেন্স বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে হবে।
রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিচারপতি এম এ মতিন। তিনি বলেন, যারা দেশের টাকা পাচার করেছে তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে। এর মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতি নিশ্চিত করতে হবে। এখন সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা। এটিকে কেন্দ্র করে অন্য সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।