মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা-যমুনা নদী থেকে অবাধে তোলা হচ্ছে বালি। এতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। বালি উত্তোলনের সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। তবে নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
সরজমিন দেখা যায়, পদ্মা ও যমুনা নদীর ৮-১০টি স্থানে ড্রেজার দিয়ে তোলা হচ্ছে বালি। অথচ বালি তোলার নেই কোনো সরকারি অনুমোদন। নিয়মানুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনে ড্রেজিং কার্যক্রম করতে পারবে। এছাড়া সরকারিভাবে প্রয়োজন হলে জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে বালি তোলা যাবে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে নদী থেকে বালি তুলে মোটা পাইপের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে তীরবর্তী এলাকায়। আর সেখান থেকে রাতের বেলায় ড্রাম ট্রাকে করে এ বালি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।
শিবালয় উপজেলার দাশকান্দি ও পাটুরিয়াঘাটের পাশে ধুতুরাবাড়ী এলাকায় রয়েছে অন্তত পাঁচটি বালির স্তূপ। এছাড়া হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলায় আরো চার-পাঁচটি এলাকায় একই কায়দায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালি তুলে ব্যবসা করছেন প্রভাবশালীরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন নদী থেকে কয়েক লাখ ঘনফুট বালি তুলে নদীতীরে স্তূপ করে রাখা হয়। প্রতি রাতে ৫০-৬০টি বড় বড় ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে এ বালি অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়। অবাধে নদী থেকে বালি তোলায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ড্রেজার দিয়ে যেভাবে বালি তোলা হচ্ছে, তাতে বর্ষা মৌসুমে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে অনেক কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। এছাড়া বালিবাহী শত শত ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ধুলোবালিতে পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বাস্থ্যকর। প্রভাবশালী বালি ব্যবসায়ীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করে অনেকে জানান, প্রভাবশালীরা নদীতীরের মানুষের ফসলি জমি বছর চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বালি রাখছেন। লিখিত চুক্তি না হলেও মৌখিকভাবে বছরে ১২ হাজার টাকা দেয়ার চুক্তি করা হয়েছে। আবার নদীপাড়ে কেউ জমি না দিলেও জোর করে বালি রাখছেন প্রভাবশালীরা।
স্থানীয় শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন খান তার ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে অবৈধ বালির ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও কারা ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ বলেন, ‘নদীতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।’