ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দল-মতের কোনো প্রভাব না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে দল ও মতের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নির্ভুলভাবে ডেটাবেজ তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।’
গতকাল আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বক্তৃতা করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। প্রধানমন্ত্রীর যে কনসার্ন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই।’ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চার বছর পর্যন্ত চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই ধারাবাহিকভাবে চলবে এবং দুই মাস পর পর পর্যালোচনা করা হবে।’
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রশিক্ষণকালীন আপনাদের জ্ঞান ভাগাভাগি করবেন এবং প্রশিক্ষণটাকে সত্যিকার অর্থে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করে তুলবেন। যাতে আপনাকে কেউ কোনো প্রশ্ন করলে আপনি সেগুলোর সমাধান ও অনুসন্ধান করে যথাযথভাবে উত্তর দিতে পারেন।’
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ‘নারীদের ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিংয়ের কাজ শেষ করেছি। এখন অক্টোবর থেকে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই ও সংগ্রহের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আপনাদের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজ তৈরিতে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ তথ্য সংগ্রহ কেবল ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। আপনারা জানেন, আমরা সমন্বিত ব্যবস্থার কথা চিন্তা করছি, যেখানে একটি কার্ড থাকবে। ওই কার্ডের মাধ্যমে সবার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এতে অনেক ধরনের তথ্যের পুনরাবৃত্তি, দ্বৈততা ও অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একজনের সিমকার্ড দিয়ে আরেকজন অপরাধ করে, সিম তোলা হয় একজনের নামে আর হুমকি দেয়া হয় আরেকজনের ফোন থেকে। এগুলো সবকিছু বন্ধ করা যাবে, যদি আমরা সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।’