রেললাইন আছে, স্টেশনও আছে; নেই শুধু নিয়মিত ট্রেন। এমন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে যশোরের গদখালী ও ধোপাখোলা রেলস্টেশনের প্লাটফর্ম ও স্টেশন ভবন। কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে প্লাটফর্ম, কোথাও জরাজীর্ণ ভবন। অন্যদিকে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে একটি মেইল ট্রেন থামলেও আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো স্টপেজ নেই। এ অবস্থায় গদখালী ও ধোপাখোলা স্টেশন দুটি সংস্কার করে পুনরায় চালু এবং মেহেরুল্লাহনগরে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একসময় যশোর-বেনাপোল রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল গদখালী ও ধোপাখোলা। ঐতিহাসিক এ স্টেশন ১৮৮২ থেকে ১৮৮৪ সালের মধ্যে নির্মিত দমদম জংশন-খুলনা রেলপথের অংশ। সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৩৮ সালে বেনাপোল-যশোর পথে নাভারণ, গদখালী, ঝিকরগাছা ও ধোপাখোলা স্টেশন ছিল। একসময় শিয়ালদহ থেকে বনগাঁ, পেট্রাপোল, গদখালী হয়ে খুলনা পর্যন্ত ‘বরিশাল এক্সপ্রেস’ চলাচল করত। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এ পথে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
১৮৮৪ সালে স্থাপিত ধোপাখোলা স্টেশনটিও একসময় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত কেন্দ্র ছিল। পরে সড়ক যোগাযোগের প্রসারের সঙ্গে এর গুরুত্ব কমে যায় এবং একপর্যায়ে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্লাটফর্ম ও স্টেশন ভবন আগাছায় ঢেকে আছে। যদিও যশোর-বেনাপোল রেলপথে ট্রেন চলছে, ধোপাখোলায় কোনো ট্রেন থামে না। ২০১৭ সালে ৫২ বছর পর কলকাতা-খুলনা রেল যোগাযোগ ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ দিয়ে পুনরায় চালু হলেও স্টেশনটি অবহেলিতই রয়ে গেছে।
এদিকে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে বর্তমানে একটি মেইল ট্রেন থামে। যবিপ্রবির কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে আন্তঃনগরসহ সব ট্রেনের স্টপেজ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রেলওয়েকে চিঠি দিয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘স্টপেজ চালু হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘স্টেশন চালুর বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত।’