সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে নির্মিতব্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে প্লট বরাদ্দ পেয়েই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি প্রতিষ্ঠান। এমন অভিযোগ উঠেছে স্টেপ ২১ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিয়োগের নামে প্রতিষ্ঠানটি চাকরিপ্রত্যাশীদের থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্টেপ ২১ লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। পার্কে বরাদ্দ পাওয়া স্থানে গড়ে ওঠা তাদের অফিসও সম্প্রতি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি নির্মাণাধীন ওই পার্কে প্রথম প্লট বরাদ্দ পায় ‘স্টেপ ২১ লিমিটেড’
নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর পরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথমে সিলেটের একটি পত্রিকায় ৫০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এরপর আরো বিভিন্ন পত্রিকায় ১০০ জন করে মোট ৫০০ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় এ প্রতিষ্ঠান। এর পর পরই প্রতিষ্ঠানটিতে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়।
এক মাস ধরে চাকরিপ্রত্যাশীরা সিলেটের রঙমহল টাওয়ারে প্রতিষ্ঠানটির উল্লিখিত অফিসে গিয়ে পরীক্ষা দেন। সেখান থেকে ১৩৮ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর তাদের সাক্ষাত্কারের জন্য হাই-টেক পার্ক অফিসে ডাকা হয়।
হাইটেক পার্কে ৭ ও ৮ মার্চ সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। এরপর তাদের সবাইকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হয়। তবে এজন্য ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়।
সাক্ষাত্কারে উত্তীর্ণ হওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, সাক্ষাত্কার-পরবর্তী সময়ে তাদের একটি কাগজ দেয় ওই প্রতিষ্ঠান। এতে লিখা ছিল, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ (ডিজিটাল মার্কেটিং) পদে জামানত (ফেরতযোগ্য) প্রদান সাপেক্ষে আপনাকে নির্বাচিত করা হলো। ১৪ মার্চের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পূবালী ব্যাংক লিমিটেড মহিলা কলেজ শাখা, সিলেটে (হিসাব নং- ২৪৪৬৯০১০২৫৬০৭.) জমাদানপূর্বক
নিয়োগপত্র গ্রহণের অনুরোধ করা হলো। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে টাকা জমা না দিলে প্রাথমিক নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
চাকরিপ্রত্যাশীরা আরো জানান, ওই কাগজে একটি মোবাইল নাম্বার দেয়া ছিল। ওই নাম্বারে কল দিলে এক নারী রিসিভ করেন। তিনি হাই-টেক পার্কে নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানেন বলে জানান।
স্টেপ-২১ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, অনেকেই কম্পিউটারের যন্ত্রপাতি নষ্ট করে ফেলে। এজন্য আমরা জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে নিচ্ছি। এক বছর পর তাদের টাকা ফেরত দেয়া হবে।
হাই-টেক পার্ক-সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযোগগুলোর প্রমাণ মিললে বরাদ্দ বাতিল করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন) এমএম আহসান হাবিব বলেন, ‘আমার এক ভাই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। তার মাধ্যমে সিলেট বঙ্গবন্ধু হাই-টেক পার্কের প্রকল্প কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছি।’