জোয়ারের পানির তোড়ে তছনছ টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়ক

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পূর্ণিমার প্রভাবে অতিজোয়ারের পানির আঘাতে এ সড়কের ১০-১২টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভেঙে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামত করা না হলে মেরিন ড্রাইভ সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পশ্চিম মুন্ডার ডেইল এলাকার প্রায় ৬০ মিটার সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে গেছে। এছাড়া দুদিনে টেকনাফের বাহারছড়া, হাদুরছড়া, দক্ষিণ মুন্ডার ডেইল এলাকায় ১০টি স্পটে মেরিন ড্রাইভে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়কটি দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের একটি বিশেষ ইউনিট। যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে  গতকাল সন্ধ্যা থেকে মেরামত কাজ শুরু করেছেন ওই ইউনিটের সদস্যরা।

গতকাল দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বাহারছড়া ঘাট থেকে হাদুরছড়া বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন শ্মশান পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটারে ১০-১২টি স্থানে সড়ক ও পাশের ঝাউবাগানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে সড়কের কিছু অংশ সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। এ সময় কয়েকটি উপড়ে পড়া ঝাউগাছও দেখা যায়। ভাঙন দেখতে আশপাশের লোকজন মেরিন ড্রাইভ সড়কে ভিড় করেছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় সড়ক রক্ষাকবজ জিও ব্যাগ দুর্বল হয়ে গেছে। এরই মধ্যে সড়কটিকে গ্রাস করছে সমুদ্র। এছাড়া আইন অমান্য করে মেরিন ড্রাইভ সড়কের একদম পাশ থেকে অনেকে বালি তুলে জমি ভরাট করেছেন। এ কারণে সাগরে সামান্য পানি বাড়লেও এ সড়কে ভাঙন দেখা যায়। 

স্থানীয় বাসিন্দা তারেকুর রহমান, রায়হান ও মোস্তফা বলেন, ‘স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ সড়ক এখন আগের মতো নেই। আগে কখনো এভাবে ভাঙন ধরেনি মেরিন ড্রাইভে। সড়কে অবাধে চলছে ভারী যানবাহন। আর সড়কের উভয় পাশ থেকে প্রভাবশালীরা বালি তুলছেন। অতিজোয়ারে সাগরের ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে আছড়ে পড়ে মেরিন ড্রাইভে। জিও ব্যাগ টপকে ঢেউগুলো সড়কে উঠে পড়ছে। যার কারণে সড়কটিতে ভাঙন ধরেছে। এটি এখনই রক্ষা না করলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক সাগরে বিলীন হয়ে যাবে।’ 

মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ জিরু পয়েন্টে বেড়াতে আসা পর্যটক তুহিন ও খোকা চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের এ বিশাল অর্জন ধরে রাখা দরকার। দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক কক্সবাজার থেকে সাবরাং পর্যন্ত পরিদর্শন করে আনন্দ পান।’

পর্যটক ও স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন এ সড়ক রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় পুরো সড়কটি সাগরে বিলীন হয়ে যাবে।  

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম বলেন, ‘সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে মেরিন ড্রাইভের বেশ কয়েকটি স্পটে ব্যাপক ভাঙন ধরেছে। অন্যবারের তুলনায় এবারের ভাঙনের মাত্রা অনেক বেশি।’ 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘পূর্ণিমার প্রভাবে সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি। মেরিন ড্রাইভের সাবরাং বাহারছড়া ঘাট মুন্ডার ডেইল, হাদুরছড়া ও পশ্চিম মুন্ডার ডেইল এলাকার বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙন রোধে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ে এ সমস্য সমাধান হবে।’ 

উল্লেখ্য, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালের ৬ মে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তবে ১৯৯১-৯২ সালে সড়ক প্রকল্পটি গ্রহণের পর থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু হয়। 

সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন হলেও নির্মাণ তদারক ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কোর। নয়নাভিরাম সড়কটি দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। 

আরও