আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল কিংবা ধর্মঘট ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের বেঞ্চ এ রায় দেন। রায় বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।
চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক-চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের পর পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের ডাকা ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে রিট মামলাটি করা হয়েছিল। জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০১৭ সালে মামলাটি করা হয়।
হাইকোর্টের রায়ের বিষয়ে রিট আবেদনকারী পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, রায়ে স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ এবং বিআরটিসির প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। রায়ে আদালত আরো বলেছেন, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলেও এর বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আদালতের কোনো রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
‘কাগজের ফুল’ সিনেমার লোকেশন দেখে ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ফেরার পথে মানিকগঞ্জের ঘিওরের জোকা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন নির্মাতা তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন। ওই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালক মুস্তাফিজ, তারেক মাসুদের প্রডাকশন ম্যানেজার ওয়াসিম ও কর্মী জামালও প্রাণ হারান। গাড়িতে থাকা তারেকের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চিত্রশিল্পী ঢালী আল-মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলি এবং তারেক মাসুদের প্রডাকশন ইউনিটের সহকারী সাইদুল ইসলাম আহত হলেও তারা প্রাণে বেঁচে যান।
পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। রায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা পরিবহন ধর্মঘট ডাকেন। এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে এইচআরপিবি রিট মামলাটি করে, যার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল।