ভূমির মালিকানা পাচ্ছে ৩৯ শহীদ চা শ্রমিকের পরিবার

১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল পাকবাহিনী সিলেটের তারাপুর চা বাগান গণহত্যা চালায়। এদিন শহীদ হন চা বাগানের ৩৯ শ্রমিক। এবার ৩৯ শহীদ পরিবারকে নিজস্ব জমি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। আজ বিজয় দিবসে তিন শহীদ পরিবারকে জমির দানপত্র হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ এপ্রিল বাগানে গণহত্যা দিবসে ২০ শহীদ পারিবারের কাছে জমির দানপত্র হস্তান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে ৩৯ শহীদ শ্রমিক পরিবারকেই জমির মলিকানা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল পাকবাহিনী সিলেটের তারাপুর চা বাগান গণহত্যা চালায়।  এদিন শহীদ হন চা বাগানের ৩৯ শ্রমিক। এবার  ৩৯ শহীদ পরিবারকে নিজস্ব জমি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। আজ বিজয় দিবসে তিন শহীদ পরিবারকে জমির দানপত্র হস্তান্তর করা হয়। এর আগে গত বছরের ১৮ এপ্রিল বাগানে গণহত্যা দিবসে ২০ শহীদ পারিবারের কাছে জমির দানপত্র হস্তান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে ৩৯ শহীদ শ্রমিক পরিবারকেই জমির মলিকানা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ।

শহীদ শ্রমিকদের পরিবারের কাছে জমির দানপত্র হস্তান্তর করেন দেবোত্তোর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত। তিনি নিজেও শহীদ পরিবারের সন্তান। তারাপুর চা বাগানের গণহত্যার দিনে পংকজ গুপ্তের বাবাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। শহীদ হন বাগানের চিকিৎসকসহ কয়েকজন স্টাফও।

আজ সকাল ১০টায় তারাপুর চা বাগানের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর  তিন শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দানপত্র হস্তান্তর করা হয়। শহীদ লুবিয়া ঘাটয়ারের একমাত্র উত্তরাধিকারী ভাতিজা নাথুরাম, শহীদ চুরী কড়ামুদির একমাত্র উত্তরাধিকারী বোন নির্মলা কড়ামুদি ও শহীদ সুরেন্দ্র ভূমিজের একমাত্র নাতনী প্রতিমা ভূমিজ জমির দানপত্র গ্রহণ করেন।

এসময় তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত বলেন, আমি নিজেও শহীদ পরিবারের সন্তান। আমার বাবা, কাকা, ভাইদের ধরে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। বয়সের কারণে সেদিন আমি বেঁচে গিয়েছিলাম। শহীদ চা শ্রমিকদের পরিবার এমনিতেই অসহায়। তাই তারা যেন স্থায়ীভাবে বাসস্থানের জায়গা পান সে ব্যবস্থা করেছি। 

এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাগান কর্তৃপক্ষ, শহীদ পরিবারের সদস্য, চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি, যুবসংঘসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ। প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে চা শ্রমিক ও শহীদ পরিবারের শিশু কিশোররা। গণহত্যায় শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

এরপর আলোচনা সভায় সংস্কৃতিকর্মী রজত কান্তি গুপ্তের পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত। এতে মুক্তিযোদ্ধা সুকেশ চন্দ্র যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। এছাড়ারও চা শ্রমিক ও শহীদ পরিবারের সন্তানরা দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও মুক্তিযুদ্ধের নাটিকা পরিবেশন করে।

এ সময় তারাপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক বিজয় কান্তি দে, তারাপুর পঞ্চায়েতের সভাপতি চৈতন্য মুদি, তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিপা দেব, সহকারী প্রধান শিক্ষক রুবনা রায়, তারাপুর যুব সঙ্গের সভাপতি জগন্নাথ রায় রাজন, টিলা ক্লার্ক মজিবুর রেজা, জহির আহমেদ চৌধুরী, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোরঞ্জন রায় সমর, শহীদ ডাক্তার ক্ষিতীশ চন্দ্র দের ছেলে অসিত বরণ দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও