সাতক্ষীরায় নির্মাণের তিন বছরেই ধসে পড়ছে সড়ক

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কলকাতা খালের পাড়ে ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় ১৭০০ মিটার সড়ক।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কলকাতা খালের পাড়ে ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় ১৭০০ মিটার সড়ক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে নির্মিত সড়কটিতে ব্যয় হয় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তবে নির্মাণের তিন বছরেই ধসে পড়েছে সড়কের ৪০০ মিটার। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি শিক্ষার্থীসহ সদর, দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলার মানুষ পড়েছে বিপাকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে এলজিইডির সমন্বয়হীনতার কারণেই সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। জোয়ার-ভাটায় সময় পুরো সড়কই খালে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাল খননের কারণে সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক নির্মাণের সময় পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করা দরকার ছিল।

বাগমারী গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান, ইদ্রিস আলী ও আতাউল হোসেন জানান, দুই বাংলার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল কলকাতা। খালের দুই পাশ দিয়ে চলে গেছে এলজিইডির সড়ক। ২০২৩ সালে খাল খনন শেষ হয়। এর পর থেকেই খালে পানিপ্রবাহ বাড়ায় সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল জানান, সিএস ম্যাপ না দেখে চর ভরাট করা জমিতে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা যদি সড়ক নির্মাণের সময় খালের আগের অবস্থান সম্পর্কে পাউবো থেকে খোঁজখবর নিতেন, তাহলে সড়কটি এভাবে নষ্ট হতো না।

সাতক্ষীরা পাউবোর ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খনন কাজ হাতে নেয়ায় অনেক খাল ও নদী প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় নয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫০ মিটার প্রস্থের কলকাতা খালটি পুনঃখনন করা হয়। খালটির মরিচ্চাপ নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকায় পানির চাপ বেড়েছে। এ কারণে সড়কটি ভেঙে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে খালের বাঁধ সংস্কার সম্ভব নয়। তার পরও সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সমন্বয় করে সড়কটি রক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কলকাতা খাল খননের কারণে বাগমারী সড়কের ৪০০ মিটার ভেঙে গেছে। সড়কটি নির্মাণের সময় পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করা দরকার ছিল। তাহলে হয়তো এমন ক্ষতি হতো না।’

আরও