নড়াইলে নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

দেড় বছরের প্রকল্প শেষ হয়নি আট বছরেও, নকশা পরিবর্তনে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ

নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে নবগঙ্গা নদী।

নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করেছে নবগঙ্গা নদী। সড়কপথে এ দুই উপজেলার সংযোগ স্থাপনের জন্য সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দেড় বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে প্রায় আট বছরে গড়িয়েছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ ব্যয় ৬৫ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ কোটি টাকায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সেতু নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় এ পথে চলাচলকারী অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বছরের পর বছর চলছে সেতু নির্মাণকাজ। শেষ হবে কবে জানা নেই কারো। সড়কপথে নড়াইল সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলাসহ আশপাশের অন্তত তিনটি জেলার যোগাযোগ সহজ করতে নবগঙ্গা নদীর ওপর কালিয়া উপজেলার বারইপাড়া পয়েন্টে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় আট বছরে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণকাজ। সর্বশেষ গত বছরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নদীর দুই তীরবর্তী অংশের সংযোগ সড়কসহ ১১টি পিলার এবং ১১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হলেও মধ্যবর্তী অংশের তিনটি পিলার ও তিনটি স্টিল স্প্যান বসানোর কাজ এখনো বাকি। নকশা ত্রুটিতে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুন। একদিকে অর্থ অপচয়, অন্যদিকে যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

অবশ্য সড়ক বিভাগ বলছে, নকশা জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই সেতুর বাকি অংশের নির্মাণকাজ শেষ হবে।

নড়াইল সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নকশার ত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি উন্মুক্ত করা হবে। নতুন করে মেয়াদ বাড়ানো হবে না। চলতি মেয়াদের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সড়ক বিভাগের তথ্য বলছে, ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৫ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাসী কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ২০১৭ সালে চুক্তিবদ্ধ হয়। কয়েক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি ও নকশা জটিলতায় নির্মাণ ব্যয় ঠেকেছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। নির্মাণকাজ শুরুর কিছুদিন পর বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর ৯ নম্বর পিলারটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর মূল অংশের চারটি পিলার ও তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সড়ক বিভাগ কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর প্রথম মেয়াদের চুক্তি শেষ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতুর বাকি অংশ নির্মাণে চুক্তিবদ্ধ হয় সড়ক বিভাগ।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করা ৮৬ দশমিক ৭৩ মিটার স্টিল আর্চ স্প্যানসহ আরো দুটি স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বেশকিছু জটিলতায় স্টিল স্প্যান বিদেশ থেকে আনতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি স্প্যান বসানোর কাজ শেষের পথে। আর মধ্যবর্তী আর্চ স্প্যানটি নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই স্থাপন করে সেতুটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘নির্মাণাধীন সেতুর পাশে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পার হতে হয় বাসিন্দাদের। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।’

আলিম ঠাকুর বলেন, ‘মোটরসাইকেল ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন পারাপারে পড়তে হয় বেশি বিড়ম্বনায়। সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।’

ব্যবসায়ী পিকুল শেখ বলেন, ‘সেতুর অভাবে পণ্য পরিবহনে সময় ও অর্থের অপচয় হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। দীর্ঘ সময়েও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।’

আরও