চাঁদপুরের ইলিশের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ইলিশ মাছের মূল্যছাড়ের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে একটি চক্র। কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিও বার্তা ও লোভনীয় অফারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে তারা। বিকাশে অগ্রিম লেনদেন করে অর্ডার নিশ্চিতের পর বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরটি ব্লক করে দেয়া হচ্ছে। এভাবেই প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা। বিজ্ঞাপনে ‘চাঁদপুরের ইলিশ’ লেখা থাকায় অনেকে মাছ না পেয়ে প্রতারকদের খুঁজে বেড়াচ্ছে চাঁদপুরে।
পুলিশ প্রশাসন বলছে, ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় অনলাইন বিক্রেতাদের যাচাই-বাছাই করে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে সম্প্রতি বৈধ বিক্রেতাদের তালিকা জমা দিয়েছে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতি। বৈধ অনলাইন ব্যবসায়ীর তালিকা করে অবৈধদের রোধ করতে মাঠে নেমেছে সংস্থাটি। অনলাইনে মাছ ক্রয়ের ৫০টি প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত করেছে পুলিশ। চাঁদপুর মাছঘাট থেকে প্রতিদিন অনলাইনে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীরা প্রায় ৫০০ মণ পর্যন্ত ইলিশ ডেলিভারি দিচ্ছেন।
চাঁদপুরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনলাইনে অর্ডার করলে কুরিয়ারে ইলিশ মাছ পাঠানোর পর টাকা নেয়া হচ্ছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পেজ নকল করে দেশের আনাচে-কানাচে একটি প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। তারা আগেই টাকা হাতিয়ে নেয়।
পাবনা থেকে সাংবাদিক শফিউল আলম দুলাল ‘চাঁদপুরের ইলিশ বাজার’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ইলিশ অর্ডার করেন। বিকাশের মাধ্যমে দুই দফায় ১১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছেন। এরপর প্রতারক চক্রটি মাছ পাঠায়নি। পরে দেখা যায় মোবাইল নম্বরটি বন্ধ।
মহসিন নামে আরো একজন এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, ‘মাছ বাজার’ নামে একটি পেজ থেকে ইলিশ অর্ডার করেছিলেন। দুই দফায় বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠিয়েও মাছ পাননি। তাকে খোঁজার জন্য চাঁদপুর বড় স্টেশনে গিয়েছেন তিনি। বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরও বন্ধ। কোনো ঠিকানাও দেয়া ছিল না। যোগাযোগের জন্য মনির হোসেনের নাম ব্যবহার করা হয়।
শফিউল আলম দুলাল জানান, মূল্যছাড়ের অফার দিয়েছে তারা। ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ে মাছ দেবে। সারা দেশে কুরিয়ারে মাছ পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে বিজ্ঞাপনে। সে অনুযায়ীই অর্ডার করেছিলেন তিনি। পরে ফোন করলে লাইন কেটে দিয়েছে। আর ফোন রিসিভ করেনি। তার নম্বরও ব্লক করে দিয়েছে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত বলেন, ‘আমাদের কাছে অনলাইনে মাছ বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার অভিযোগ আসে। যারা এসব প্রতারণা করে, তারা এখানকার লোক নয়। তারা মাছ ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত নয়। আমাদের এখানে যারা অনলাইনে মাছ বিক্রি করে, সমিতির পক্ষ থেকে তাদের তালিকাভুক্ত করেছি এবং একজন সদস্যের রেফারেন্স নিয়ে তাদের ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছি। এ তালিকা পুলিশ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছেও রয়েছে। তার পরও ভোক্তারা যেন প্রতারিত না হন, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনলাইনে ইলিশ কেনার জন্য মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে নক করে। আমরা দেখছি, আমাদের কাছে বেশকিছু অভিযোগ এসেছে। অভিযোগগুলো আমরা যাচাই করে দেখছি। তদন্তও করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ফোন নম্বর শনাক্ত করতে পেরেছি। যেগুলো আসলে চাঁদপুর এলাকার না। চাঁদপুরের নাম দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা প্রতারণা করছে। অনলাইনে যাচাই না করে ইলিশ মাছ কেনা ঠিক নয়। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা আমাদের ওয়েবসাইটে দিয়েছি।’