লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবস

উৎসবমুখর দ্বিতীয় দিন আজ শেষ লালন মেলা

স্মরণোৎসবকে কেন্দ্র করে কালীগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা। মেলায় লোকজ পণ্য, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও নানা ধরনের সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীর আনাগোনায় মেলাপ্রাঙ্গণেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন শাহর ১৩৬তম তিরোধান দিবসে তিনদিনের আয়োজনের গতকাল দ্বিতীয় দিনটিও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করেন দেশ-বিদেশের লালনভক্ত, সাধু-বাউল, শিল্পী ও দর্শনার্থীরা। হাজারো মানুষের পদচারণায় কালীগঙ্গা তীরে ঐতিহাসিক আখড়া বাড়িতে গতকালও সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

স্মরণোৎসবকে কেন্দ্র করে কালীগঙ্গা নদীর তীরঘেঁষে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা। মেলায় লোকজ পণ্য, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও নানা ধরনের সামগ্রীর পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীর আনাগোনায় মেলাপ্রাঙ্গণেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।

উৎসবে আগত ভক্তদের কাছে ছেঁউড়িয়া কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং লালনের সাধনা, সংগীত ও মানবমুক্তির দর্শনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পবিত্র প্রাঙ্গণ। প্রতি বছর তিরোধান দিবসে এখানে সমবেত হয়ে তারা লালনের গান গেয়ে, তার দর্শন চর্চা করে ও সাধুসঙ্গে অংশ নিয়ে মরমি সাধকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আজ শেষ হবে স্মরণোৎসব ও মেলা। লালনসংগীত, সাধুসঙ্গ, আলোচনা ও লোকজ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রতিটি পর্বে স্মরণ করা হবে মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন শাহকে। উৎসবের আনন্দ আর তিরোধান দিবসের গভীর শ্রদ্ধা—এ দুইয়ের মেলবন্ধনে ছেঁউড়িয়া আবারো হয়ে উঠেছে বাংলার মরমি সংস্কৃতি ও মানবিক দর্শনের এক অনন্য মিলন কেন্দ্র।

তিনদিনের আয়োজনের উদ্বোধনী রাতে মঞ্চে গান গেয়েছেন শিল্পী বিউটিসহ লালন একাডেমির শিল্পীরা। জাতীয়ভাবে লালন তিরোধান দিবস আয়োজনের দ্বিতীয় দিন গতকাল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুল্লাহ হারুন। লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে সেখানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক-চিন্তক ফরহাদ মজহার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ সন্ধ্যায় আলোচনা ও রাতে মঞ্চে গানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।

আরও