রাষ্ট্রপতির আদেশে ক্ষমা পেলেন এনবিআরের শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তা

২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির পর এর বিরোধিতা করে প্রায় দেড় মাসজুড়ে আন্দোলন করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রাজস্ব খাতের সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। মার্জনা চেয়ে তারা আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এরই মধ্যে শাস্তি মওকুফের বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

শাস্তি থেকে মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন কমিশনার জাকির হোসেন (চলতি দায়িত্বে); অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু; যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির; উপকর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।

২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির পর এর বিরোধিতা করে প্রায় দেড় মাসজুড়ে আন্দোলন করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই বছরের জুনের শেষ দিকে দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আহরণ হুমকির মুখে পড়ে। ওই সময়ে টানা কয়েক দিন রাজধানীর এনবিআরসহ দেশের সব শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ থাকে, যা এনবিআর ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশ চলে। তখন স্থবির হয়ে যায় পুরো রাজস্ব খাত।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, শাস্তি মওকুফ পাওয়া এনবিআরের এ কর্মকর্তাদের আন্দোলনের সময় বদলি করা হয়। পরে তারা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, যা ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩০এ বিধির লঙ্ঘন। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি (খ) অনুসারে ‘অসদাচরণ’। তাদের কেউ কেউ আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। কেউ নিজ নিজ দপ্তর বন্ধ রেখে আন্দোলনে অংশ নেন।

একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি (সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড অবনমন ইত্যাদি) দেয়া হয়।

আইআরডির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা মার্জনা প্রার্থনা করে আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।

আরও