নওগাঁয় ধানবোঝাই ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা পর্যায়ে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
গ্রেফতার হওয়া ছয়জন হলেন— গাইবান্ধা জেলার শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ব্যাপারীর ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ, বড় সাতাইল বাতাইল গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু, রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ, পলুপাড়া গ্রামের মৃত হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ, বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু এবং বরিশাল জেলার চরকা কাটা চানপুর গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে একটি ট্রাকে করে ২৫০ বস্তা ধান নওগাঁর দিকে নিয়ে আসা হচ্ছিল। ট্রাকটিতে মোট ৫০০ মণ ধান ছিল। রাত আনুমানিক ২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের একটি ফাঁকা সড়কে পৌঁছালে ডাকাতরা সামনে আরেকটি ট্রাক দাঁড় করিয়ে পথ রোধ করে।
এ সময় ট্রাকচালক মারুফ ও তাঁর সহকারী শামীমকে মারধর করা হয়। পরে তাদের হাত ও পা বেঁধে ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে ডাকাতরা সেখান থেকে সরে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করা হয়।
মামলার পরপরই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন ব্যক্তিকে সন্দেহজনক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। সে তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পায়।
পরে আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, ডাকাত দলের প্রধান সামিউল ইসলামের একটি ভাড়া বাসা গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় রয়েছে। সেখানে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আগেই পালিয়ে যান।
তবে ওই বাসা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ধানবোঝাই ট্রাকের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর গাইবান্ধা ও সাভার এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এসব অভিযানে একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বাকি জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। একই সঙ্গে লুট হওয়া ধান উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।