সৃজনশীল শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করে জিডিপি প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটার খাতের বিকাশে নীতি সহায়তা, অর্থায়ন ও বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথাগত অর্থনৈতিক ভাবনায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সবসময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রাখা হয়েছিল। সরকার এ চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের একার পক্ষে সবকিছু বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নীতি ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং এনজিওগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ খাতকে সামনে এগিয়ে নেয়া হবে। এরই মধ্যে সরকার বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং বেসরকারি খাতও এতে বড় ধরনের অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসছে।
সৃজনশীল খাতের প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং এবং আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপণন সহায়তা দেয়া হবে। এতে করে দেশের প্রান্তিক শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন ও নগদায়ন সম্ভব হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসা নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য একটি 'সফট পাওয়ার'। সঙ্গীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে নিজস্ব অবস্থান শক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে তাদের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আগামী দিনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টায় দেশে একটি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক। আরো উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এনামুল হক ।