দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ দুই রোগে মোট ১১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছে আটজন আর হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনা বিভাগে পাঁচজন, ঢাকা বিভাগে দুজন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন মারা গেছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ও নারী চারজন করে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা, খুলনা ও কুমিল্লা জেলায় একজন করে মারা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৩২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ২৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪১, চট্টগ্রামে ২০৯ ও বরিশালে ২০৪ জন ভর্তি হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০৬ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭১ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৬ হাজার ২৫১ জন। এছাড়া চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট ১ হাজার ৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের শরীরে। এ সময় ৯৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮১৩।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানায়, এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৬ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৪৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৭৩ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৯, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ ও রংপুর বিভাগে ১৫ জন মারা গেছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩২২ জন, চট্টগ্রামে ২৪২, সিলেটে ১৩১, বরিশালে ৯৫, খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ৬২, রাজশাহীতে ১৪ ও রংপুরে নয়জন।
উপসর্গ-১, ৮৬,৮১৩
হাসপাতালে ভর্তি-১, ৬৫,১৫৫
আক্রান্ত-২১, ০৯৯
মৃত্যু-১০১
উপসর্গে মৃত্যু-৯৮৬
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
২৬-০৯-২০২৬