রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জিএএফের সভা

স্থানীয় সরকারে প্রতীক ও দলীয় নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) গভার্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে স্থানীয় সরকার সংস্কার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব করা হয়।

স্থানীয় সরকারে দলীয় ও প্রতীকনির্ভর নির্বাচন থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের অধীনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গঠন করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) গভার্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে স্থানীয় সরকার সংস্কার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব করা হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার সংস্কার বিষয়ে ফোরামের বক্তব্য উপস্থাপন করেন গভার্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের (জিএএফ) সমন্বয়কারী ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। তিনি বলেন, কমিশন যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সেখানে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অধিদপ্তর, সেবা ইত্যাদি বিষয়ক ২৩টি সুপারিশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আরো অংশীজন নিয়ে পর্যালোচনার পরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকারকে একই কাঠামোর অধীনে আনতে হলে আলাদা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। বিদ্যমান জেলা পরিষদকে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সভায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ক্ষমতার দিক থেকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটুকু এগিয়ে নেয়া যায় সেটিই এখন ভাবার বিষয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কঠিন হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার আদলে জেলা সরকারকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় তা ভাবতে হবে।

বিএনপির প্রশিক্ষণ সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আমলাদের প্রভু মনে না করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকারেও সাম্যতার ভিত্তিতে নারীদের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, স্থানীয় সরকারের পদগুলো যেন বিপজ্জনক না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে বার্ষিক পর্যালোচনার ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সরকারের সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় স্থানীয় সরকার সংস্কার এজেন্ডা হিসেবে আসছে না। অথচ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় পদ্ধতির নির্বাচনসহ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো আরো জটিলতা তৈরি করতে পারে। দলীয় প্রতীক বাতিল, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা ও মনিটরিং বাড়িয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য এনে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।

উমামা ফাতেমা বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীরা এখনো পিছিয়ে আছে। সংরক্ষণের মাধ্যমে রূপক অর্থে নারীদের না রেখে নারীদের কার্যকর ক্ষমতায়ন কীভাবে করা যায় তা ভাবতে হবে।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান।

আরও