আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল-সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, বাসে আগুন

রাত ১২টার দিকে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার খবর পেলে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিটি ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাস। আগুন দেয়া হয় ভেতরে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেট কারে। আর দুটি বাস, তিনটি মাইক্রোবাস, দুটি মোটরসাইকেল, প্রশাসনিক ভবন ভাংচুর করা হয়।

সাভারের আশুলিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সিটি ইউনিভার্সিটির বাস, মাইক্রোবাস ভাংচুরের পাশাপাশি আগুন দেয়া হয়। তছনছ করা হয় প্রশাসনিক ভবন। সংঘর্ষে ঘটনায় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি দুই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়ার খাগান এলাকায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যার যার ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেলের পাশে বসে ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্য এক শিক্ষার্থী থুথু ফেললে সেখান দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়া ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ইটপাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ভাড়া করা ওই বাসায় ভাংচুর করে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সেখানে যান। তারা সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু রাত ১২টার দিকে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার খবর পেলে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা। এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সিটি ইউনির্ভাসিটি ক্যাম্পাস। আগুন দেয়া হয় ভেতরে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেট কারে। আর দুটি বাস, তিনটি মাইক্রোবাস, দুটি মোটরসাইকেল, প্রশাসনিক ভবন ভাংচুর করা হয়।

এদিকে ৯ শিক্ষার্থীকে সিটি ইউনিভার্সিটিতে আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর শেখ মুহাম্মদ আলিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধানের।’

সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ ক্যাম্পাস পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা মারামারি করেছে, সেটা সমাধান করা যেত। কিন্তু ক্যাম্পাস পুড়িয়ে দেয়া কাম্য হতে পারে না।’ এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

আরও