জাল ভোটের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। এতে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচণা দেয়ার অভিযোগে মো. জিয়া মিয়াকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। তিনদিন আগে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে জিয়া মিয়া এলাকায় ফেরেন। তার সন্দেহ, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেফতারে সহযোগিতা করেছিলেন।

এ সন্দেহের জেরে গত সোমবার বিকালে শিশু মিয়াকে একা পেয়ে মারধর ও তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে জিয়া মিয়ার লোকজন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কাশেম মিয়ার পক্ষ থেকে গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে জড়ো করা হয়। একইভাবে লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকেও সংঘর্ষে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক জানান, জাল ভোট নিয়ে সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই বড় আকারের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় মামলা করেনি।

আরও